রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার দিনভর ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। তাদের একটাই দাবি—দ্রুততম সময়ে ধর্ষক ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
পল্লবীতে রামিসাদের বাসার সামনে চতুর্থ দিনের মতো জনতার ঢল নামে। সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। অনেকেই ধর্ষণ ও শিশুহত্যার মতো অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
শুক্রবার দুপুরে রামিসার পরিবারের সদস্যরা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে কুলখানিতে অংশ নিতে রওনা হন। বুধবার রাতে ওই গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে রামিসাকে দাফন করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান জানান, সিআইডির ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পর রোববারের মধ্যেই চার্জশিট জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে অতীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা ছিল।
এদিকে রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বর ও কালশী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত থাকলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা অতীতেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং তার স্বভাব-চরিত্র ভালো ছিল না।
রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতারা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ভবিষ্যতে অনেক শিশুর জীবন রক্ষা করবে।
সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন রামিসার পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা মামলার আসামিপক্ষকে আইনি সেবা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গুলশান-২ গোলচত্বরে গুলশান সোসাইটির উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি এবং এ হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
বরিশালেও রামিসা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন নারী ও শিশু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার পল্লবীতে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা আট বছরের রামিসাকে জোর করে নিজের বাসায় নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় এবং লাশ গুমের চেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনায় সোহেল রানাসহ তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে রামিসার পরিবার।