রাজশাহীসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ধানের দাম কম থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম হওয়ায় হতাশ কৃষকরা।
কৃষক ও কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে বোরো আবাদে খরচ হয়েছে প্রায় ২৬ থেকে ২৭ হাজার টাকা। অথচ বাজারে ধান বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকার মতো। ফলে প্রতি বিঘায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কৃষক জয়নাল আবেদিন জানান, সাড়ে তিন বিঘা জমিতে বোরো চাষ করতে তার মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করলে তিনি পাবেন প্রায় ৯১ হাজার টাকা। এতে তার লোকসান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১২ হাজার টাকা।
কৃষকদের অভিযোগ, বড় বড় কোম্পানির এজেন্টরা মোকামগুলোতে সিন্ডিকেট করে ধানের দাম নির্ধারণ করছে। ফলে কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করছেন। আগে স্থানীয় চাতাল মালিকরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনলেও এখন অধিকাংশ চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বড় কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
নওগাঁর কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কয়েকটি বড় কোম্পানির দখলে চালের বাজার চলে যাওয়ায় ছোট চাতাল ব্যবসায়ীরা টিকতে পারেননি। এতে কৃষকেরা এখন মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
কৃষকদের দাবি, ডিজেল, সার, সেচ ও শ্রমিকের খরচ বাড়লেও ধানের দাম বাড়েনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ধান বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১ হাজার ১২০ টাকা মন দরে।
এদিকে সরকারিভাবে ১ হাজার ৪৪০ টাকা মন দরে ধান কেনা শুরু হলেও সাধারণ কৃষকরা খাদ্য গুদামে সহজে ধান বিক্রি করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, সেখানে সিন্ডিকেট ও নানা জটিলতার কারণে প্রকৃত চাষিরা সুবিধা পাচ্ছেন না।
তবে খাদ্য বিভাগের দাবি, তারা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই ধান কিনতে চায়। অন্যদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, উত্তরাঞ্চলে এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার হলে বাজারে ধানের দাম বাড়তে পারে বলে আশা তাদের।\
সূত্র: যুগান্তর