বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ন

রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের

  • সময়: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০.০৪ এএম
  • ২৮ জন

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, মূল অভিযুক্ত স্বামীকে পালানোর সুযোগ করে দিতেই ভেতর থেকে দীর্ঘ সময় দরজা খোলে না স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। জানালার গ্রিল কেটে স্বামী পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই দরজা খোলে সে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রামিসার মা যখন দরজায় বারবার কড়া নাড়ছিলেন, তখন ফ্ল্যাটের ভেতরেই হত্যাকাণ্ড চলছিল। অভিযুক্ত সোহেল রানাকে পালানোর সুযোগ করে দিতেই স্বপ্না দরজা বন্ধ রাখে। পরে সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলে দরজা খোলে সে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডে স্বপ্নার সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রতিবেশীর বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর আলামত নষ্ট ও মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার নিমাকদমা চৌদ্দগ্রাম এলাকায়। নিহত রামিসার পরিবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে এসে একই ভবনে ভাড়া থাকত। ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে আটক করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছোরা এবং শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথাও উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির জানান, পাশের ফ্ল্যাটে থাকা মাদকাসক্ত সোহেল দুই ফ্ল্যাটের মাঝের ফাঁকা স্থান দিয়ে শিশুটিকে নিজের রুমে নিয়ে যায়। পরে বাথরুমে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনও করা হয়।

মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় স্বপ্না আক্তার। পরে স্কুলে যাওয়ার সময় তাকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা স্বপ্নার ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তারা। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং মাথাটি একটি বড় বালতির ভেতরে পাওয়া যায়।

পরে স্বপ্না আক্তার জানায়, তার স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে। এরপর মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এবং মাথা আলাদা করে বালতিতে রাখা হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল রানা।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by BUD News 24