| রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী সড়কের একটি রেস্তোরায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভুক্তভোগী স্বামী আজহারুল ইসলাম ও তার পরিবার। নির্যাতনের শিকার স্বামী আজহারুল ইসলাম নিজেকে ঠাকুরগাঁও সদরের সালন্দর সিংপাড়া তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার প্রধাণ শিক্ষক বলে পরিচয় দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্বামী আজহারুল ইসলাম জানান, সালন্দর এলাকার সোলেমান আলীর মেয়ে লাভলী বেগমের সাথে ১৯৯৯ সালের আগষ্ট মাসে বিয়ে হয় তার। এর পরে তাদের দুটি সন্তান হয়। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী লাভলী বেগম বিভিন্ন উছিলায় স্বামী আজহারুল ইসলামের পৈত্রিক জমি তার নামে লিখে দিতে বলে। আজহারুল ইসলাম প্রথমে এগুলোকে স্বামী স্ত্রীর মাঝে খুনসুটি মনে করলেও কিছুদিন পর তার সে ভূল ভাঙ্গে। সময় গড়ানোর সাথে সাথে স্ত্রী লাভলীর জেদ বাড়তে থাকে এবং কাঙ্খিত জমির পরিমানও বাড়িয়ে বলতে থাকেন, যা তিনি স্বামী আজহারুল ইসলামের নিকট থেকে লিখে নিতে চাইতেন। সময়ের সাথে সাথে আজহারুল ইসলামের ওপর বাড়তে থাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
এক পর্যায়ে আজহারুল ইসলাম চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল দেশের প্রচলিত আইনে লাভলীকে তালাক দেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৪ মে লাভলী ও তার ভাই সাদ্দাম ও ইউনুসের সহযোগীতায় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল আজহারুল ইসলাম ও তার পরিবার সহ মাদ্রাসায় হামলা চালায় এবং মাদ্রাসার দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে তিনি জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। আজহারুল ইসলাম ও তার ভাই বোনেরা হামলায় আহত হলে তারা পরবর্তীতে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু এ ঘটনার পর থেকে আজহারুল ইসলাম একদিকে যেমন তার বাসায় যেতে পারছেন না, অপরদিকে মাদ্রাসা তালাবদ্ধ থাকায় পাঠ গ্রহণে ব্যার্থ হ্েচ্ছ মাদ্রাসায় পড়তে আসা কমলমতী শিক্ষার্থীরা। তাই দ্রুতই এ অবস্থা থেকে উত্তরোণের জন্য তার এ সংবাদ সম্মেলন।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় তার সাথে তার ভাই আব্দুল আলিম ও জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।