মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে প্রয়াত কুখ্যাত ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে রাশিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের, এমনকি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
২০১৮ সালে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এপস্টেইন জোর তৎপরতা চালিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। নথিতে দেখা যায়, এপস্টেইন তৎকালীন কাউন্সিল অব ইউরোপের সেক্রেটারি জেনারেল থর্বজর্ন জ্যাগল্যান্ডকে ইমেইল করে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে পুতিন যেন লাভরভকে এপস্টেইনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
তিনি যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, জাতিসংঘে রাশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত ভিটালি চুরকিন বেঁচে থাকতে তার সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করতেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পর এখন লাভরভ সেই জায়গা নিতে পারেন।
এপস্টেইন দাবি করেছিলেন যে, চুরকিনের সঙ্গে তার কথোপকথন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বুঝতে রুশ কর্মকর্তাদের সাহায্য করত। এই নতুন তথ্যগুলো সামনে আসার পর পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ঘোষণা করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে রুশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কোনো যোগসূত্র ছিল কিনা, তা নিয়ে তার দেশ তদন্ত শুরু করবে।
টাস্কের মতে, এই যৌন কেলেঙ্কারির নেপথ্যে রুশ গোয়েন্দাদের হাত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যা বর্তমানে অনেক বিশ্ব নেতার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। তবে ক্রেমলিন এই অভিযোগকে নাকচ করে দিয়ে একে গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেছে।
নথিগুলোতে ২০১৩ সালের ঘটনাও উঠে এসেছে, যেখানে এপস্টেইন দাবি করেছিলেন যে তিনি মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের উপদেষ্টা এবং রাশিয়ার মহাকাশ অভিযানের মতো বড় কোনো প্রজেক্টে পুতিনকে সাহায্য করতে পারেন। এমনকি তিনি সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাককে জানিয়েছিলেন, পুতিন তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পর্যাপ্ত সময় ও গোপনীয়তা নিশ্চিত না হওয়ায় তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
তবে পুতিন বা লাভরভের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো বৈঠক আদতে হয়েছিল কিনা, নথিতে তার কোনো অকাট্য প্রমাণ মেলেনি।
নথিতে এপস্টেইনের রুশ ঘনিষ্ঠদের তালিকায় সের্গেই বেলাকভ এবং মাশা দ্রোকোভা বুচারের নাম স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। বেলাকভ রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির একাডেমি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন এবং তার মাধ্যমে এপস্টেইন রাশিয়ার বড় বড় অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করতেন।
অন্যদিকে, মাশা দ্রোকোভা ছিলেন পুতিনপন্থি যুব সংগঠনের সদস্য, যিনি এপস্টেইনের হয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছিলেন। এছাড়া ফ্লাট লগ অনুযায়ী, ২০০২ সালে এপস্টেইন ও তার সহযোগী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল ব্যক্তিগত বিমানে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে ভ্রমণ করেছিলেন। ২০১৯ সালে গ্রেফতার হওয়ার কয়েক মাস আগেও তিনি রাশিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন বলে জানা গেছে।