হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল–এর চলমান সংঘাতের মধ্যে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পরপরই গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কৌশলগত জলপথটি দখলে নেওয়ার কথা বলেছেন। তবে ইরান সেখানে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে প্রণালির বিভিন্ন স্থানে সমুদ্র-মাইন বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের ১৬টি মাইন বসানো জাহাজ ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ১০টি নিষ্ক্রিয় মাইন বসানোর জাহাজ পুরোপুরি ধ্বংস করেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ ট্রাম্প লিখেছেন, “যদি ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন বসিয়ে থাকে—যদিও আমাদের কাছে এখনো তেমন নিশ্চিত তথ্য নেই—তাহলে সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, তেহরান যদি তা না করে, তাহলে তাদের সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের মাইন বসানোর জাহাজ ও মাইন সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের চলমান উত্তেজনার জেরে ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের উপকূলঘেঁষা এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।