বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি হাইকমিশন ও কনস্যুলেট কার্যালয় থেকে এক রাতের মধ্যে রাষ্ট্রপতির ছবি নামিয়ে ফেলা তাঁর অপসারণের ইঙ্গিত ছিল বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা বিদেশ সফরে গিয়ে একটি বাংলাদেশ হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির ছবি ঝুলতে দেখে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট প্রধানকে ভর্ৎসনাও করেন—কেন রাষ্ট্রপতির ছবি সেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি হাইকমিশন ও কনস্যুলেটগুলোতে রাষ্ট্রপতির ছবি রাখা একটি প্রচলিত রাষ্ট্রীয় রীতি, কারণ রাষ্ট্রপতিই রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।
এই ঘটনার পরপরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রায় সব হাইকমিশন ও কনস্যুলেট থেকে এক রাতের মধ্যে তাঁর ছবি নামিয়ে ফেলা হয় বলে জানান রাষ্ট্রপতি। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর তিনি জানতে পারেন এবং মনে করেন, এটি ছিল তাঁকে অপসারণের ইঙ্গিত বা প্রথম ধাপ। তাঁর আশঙ্কা ছিল, পরবর্তী ধাপে তাঁকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে—এমন সম্ভাবনা মাথায় রেখেই তাঁকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার মাধ্যমে জনগণের কাছেও একটি নেতিবাচক বার্তা পৌঁছায়—যেন রাষ্ট্রপতিকে আর রাখা হচ্ছে না। অপমানজনক পরিস্থিতি সত্ত্বেও তিনি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে দায়িত্বে অবিচল ছিলেন।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেন এবং সেখানে নিজের ক্ষোভ ও আপত্তির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তবে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার নাম প্রকাশ করতে চাননি।
চিঠি পাওয়ার পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ নিয়ে আর কিছু বলতে চান না—এরপর তিনি নীরব থাকেন।