বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন

ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল; সড়কে চাপ বাড়লেও নৌপথে স্বস্তি

  • সময়: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৮.৪৭ এএম
  • ৬৭ জন
সংগ্রহীত ছবি

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। সড়ক, রেল ও নৌপথ—সবখানেই এখন যাত্রীর চাপ বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই অনেকেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন, যদিও ধীরে ধীরে যানজট বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার থেকে বিভিন্ন মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়তে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি যানজট তৈরি হলেও সামগ্রিকভাবে চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েকদিনে চাপ আরও বাড়তে পারে, যা ঈদযাত্রার স্বস্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য, পচনশীল দ্রব্য, ওষুধ, জ্বালানি ও গার্মেন্টসপণ্যবাহী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

সারা দেশের বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে যাত্রীর ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এবারও যাত্রীদের চাপ বেশি দেখা গেছে। লঞ্চগুলো দ্রুত যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত রুটে ছেড়ে যাচ্ছে, ফলে এখনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। টোল প্লাজা ও নির্মাণাধীন অংশে ধীরগতির কারণে কোথাও কোথাও যানজট তৈরি হচ্ছে। গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থেমে থেমে যানজট দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ- বিশ্বরোড অংশে নির্মাণকাজ চলায় যানবাহন ধীরগতিতে চলছে।

অন্যদিকে পদ্মা সেতু এলাকায় গাড়ির চাপ বাড়লেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা তুলনামূলক স্বস্তিতে যাতায়াত করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে ২০৭টি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। এসব স্পটে বাড়তি নজরদারি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মহাসড়ক এখনো ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে, যা ঈদযাত্রায় ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

এদিকে আরিচা-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল স্বাভাবিক থাকায় যাত্রীদের পারাপার স্বস্তিদায়ক হচ্ছে। অতিরিক্ত চাপ সামলাতে বাড়তি ফেরি ও নৌযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের আগে কয়েকদিনে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারেন। এই বিশাল যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে।

সব মিলিয়ে, এখনো ঈদযাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সামনে চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোগান্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by BUD News 24