গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের প্রতিবাদে আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। আমেরিকার নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অন্য শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর ইসরাইলবিরোধী সেসব বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এরই ধারাবাহিকতায় কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ইসরাইলবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিলকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্ট বা অভিবাসন এজেন্টের সদস্যরা। গত রোববার (৯ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইউনিয়ন এ তথ্য জানিয়েছে।
স্টুডেন্ট ওয়ার্কার্স অফ কলম্বিয়া শ্রমিক ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ছাত্র মাহমুদ খলিলকে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় তার ইউনিভার্সিটির বাসভবন থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্টরা গ্রেপ্তার করেছে। তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছিল অন্যতম।
ইউনিয়ন জানিয়েছে, খলিলের স্ত্রী আমেরিকার নাগরিক এবং আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। খলিলের এদেশে স্থায়ী বসবাসের জন্য গ্রিনকার্ড রয়েছে। খলিলকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন।
ছাত্র বিক্ষোভকারীদের প্রতি ট্রাম্পের সমালোচনা সম্পর্কে শনিবার গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে খলিল বলেছিলেন, মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন তাকে ‘টার্গেট’ করেছে। তার গ্রেপ্তার কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইনের লংঘনই নয়, এটি যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনও।
এদিকে খলিলকে গ্রেপ্তারের পর রোববার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লিখেছেন, হামাস সমর্থকদের ভিসা বা গ্রিন কার্ড বাতিল করবে ট্রাম্প প্রশাসন, যাতে তাদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করা যায়। হামাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যকলাপে জড়িত থাকায় খলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। এমনকি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষও খলিলের গ্রেপ্তার নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের আশপাশে আইসিই কর্মকর্তারা টহল দিচ্ছে।
এর আগে, ট্রাম্প গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কড়া সমালোচনা করেন এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। গত শুক্রবার কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ইহুদি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ এনে প্রতিষ্ঠানটির জন্য নির্ধারিত ৪০০ মিলিয়ন ডলার সরকারি অনুদান বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসন।