রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকের আগেই ইউক্রেনকে দেওয়া সহায়তার অর্থ ফেরত বাবদ ইউক্রেনের বিরল খনিজসম্পদের ৫০ শতাংশ মালিকানা দাবি করেছেন ট্রাম্প। নিজ দেশের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকায় ট্রাম্পের সেই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। তবে এবার ট্রাম্পের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন জেলেনস্কি। এই চুক্তির ফলে আমেরিকা ইউক্রেনের বিরল এই খনিজসম্পদ ভাণ্ডারে প্রবেশাধিকার পাবে। গত মঙ্গলবার কিয়েভের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকার খনিজসম্পদের উন্নয়নের জন্য কিয়েভের সঙ্গে শিগগিরই চুক্তি হতে যাচ্ছে তাদের। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শুক্রবার জেলেনস্কির ওয়াশিংটন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তারপর এই চুক্তিতে সই করবেন তিনি। চুক্তিটি অনেক বড় বলেও জানান ট্রাম্প।
তিনি বলেন, চুক্তির বিনিময়মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে এবং এর ফলে আমেরিকার করদাতা তাদের অর্থ ফেরত পাবে।
ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এমন এক যুদ্ধে আমেরিকার শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা একেবারেই উচিত হয়নি। এই চুক্তির ফলে কিয়েভের সুবিধা কীÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিয়েভকে এখন পর্যন্ত ৩৫০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়া কিয়েভ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অধিকারও তারা পাবে।
কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস অনুসারে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইউক্রেনের জন্য ১৭৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে কংগ্রেস।
এ যুদ্ধ অবসানের জন্য মস্কোর সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেনকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে কিয়েভের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়েছিল। তবে এই চুক্তি সম্পন্ন হলে দুদেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে গত সপ্তাহে জেলেনস্কিকে ‘নির্বাচনবিহীন স্বৈরশাসক’ বলে অভিহিত করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সঙ্গে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ বৃদ্ধি জেলেনস্কিসহ ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি পুরোটাই কিয়েভের প্রতিকূলে চলে যায়। মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, বিরল খনিজসম্পদে আমেরিকার প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে আলোচনার জন্য তার দরজা খোলা রয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের রাশিয়া অধিকৃত অঞ্চলগুলোও রয়েছে।
যদিও চুক্তির সম্পূর্ণ বিবরণ নিশ্চিত করা হয়নি। এ বিষয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইউক্রেন ভবিষ্যতে তার সম্পদের নগদীকরণ থেকে প্রাপ্ত আয়ের ৫০ শতাংশ একটি যৌথ মালিকানাধীন তহবিলে প্রদান করবে, যা ইউক্রেনের প্রকল্পগুলোয় বিনিয়োগ করবে। খগড়ায় কিয়েভের নিরাপত্তার গ্যারান্টিও দেওয়া হয়নি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, ইউক্রেনের কাছে বিশ্বের বিরল খনিজসম্পদের মজুতের প্রায় ৫ শতাংশ রয়েছে। ল্যান্থানাম, সেরিয়াম ও প্রাসিওডিয়ামিয়ামসহ খনিজসম্পদগুলো ইলেকট্রনিক্স, ব্যাটারি এবং চুম্বক তৈরির মূল উপাদান।