আমেরিকার স্বর্ণযুগ এখন থেকে শুরু হলো। আজ থেকে আমাদের দেশ সমৃদ্ধ হবে এবং সম্মানিত হবে। আমি সাধারণভাবে আমেরিকাকে প্রথমে রাখব।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর অতিথিদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। এর আগে সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, আমেরিকা ফের একটি উৎপাদনশীল দেশ হয়ে উঠবে। আমেরিকার নিচে পৃথিবীর যে কোনো দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে। আমরা এ সম্পদ ব্যবহার করব।
রোববার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে শপথ-পূর্ব এক র্যালিতে সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প অঙ্গীকার করেন, শপথ নেওয়ার পর পরই ‘ঐতিহাসিক গতি ও শক্তিতে’ প্রশাসন পরিচালনা করবেন। দায়িত্বের প্রথম দিন দুই শতাধিক নির্বাহী আদেশে তিনি স্বাক্ষর করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যালিতে ট্রাম্প বলেন, ‘বাইডেন প্রশাসনের সবকটি একরোখা ও অযৌক্তিক নির্বাহী আদেশ শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমি প্রত্যাহার করব।’
ট্রাম্প বলেন, সোমবার তার নির্বাহী আদেশগুলো অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলাকেন্দ্রিক হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি বিশাল বাধার সম্মুখীন হবে এবং সম্ভবত কয়েক বিলিয়ন ডলারের খরচও হতে পারে। এ ছাড়া ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে দাঙ্গার ঘটনায় দোষী সাব্যস্তদের জন্য ট্রাম্প ক্ষমা ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওই হামলার নেতৃত্বে তার সমর্থকরাই ছিলেন।
তবে প্রথম দিনে ট্রাম্প কোনো প্রকার শুল্ক জারি করছেন না জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। নভেম্বরে নির্বাচনে জয় লাভের বিভিন্ন সময়েই কানাডা ও মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
গত বছর নভেম্বরে জোর প্রতিযোগিতার পর নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে হারিয়ে দেন রিপাবলিকান দল থেকে প্রার্থী হওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে চার বছর আগে নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরলেন ৭৮ বছর বয়সি এই রিপাবলিকান রাজনীতিক।
আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘুষের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হিসেবে শপথ নিয়েছেন ট্রাম্প। গত বছর ৩০ মে নিউইয়র্ক সিটি জুরি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন।
সোমবার সকালে হোয়াইট হাউসের কাছে সেন্ট জনস এপিসকোপাল গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেন ট্রাম্প। পরে প্রথা অনুযায়ী হোয়াইট হাউসে গিয়ে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে চা পান করেন তিনি। শেষে দুই নেতা একই গাড়িতে শপথের অনুষ্ঠানস্থল ক্যাপিটল হিলে যান।
সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের শপথের সময় ব্যবহৃত বাইবেল ছুঁয়ে শপথ নেন ট্রাম্প।
শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ওয়াশিংটনে জড়ো হয়েছেন ট্রাম্প সমর্থকরা। রোববার র্যালির পর থেকেই তারা রাজধানীতে জড়ো হতে থাকেন। অন্যদিকে শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে ওয়াশিংটন ডিসিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ট্রাম্পের শপথের আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে জে ডি ভেন্সও শপথ নিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্প তার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মনোনয়ন দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে পেটে হেগেসথ, অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পাম বন্ডি, অর্থমন্ত্রী হিসেবে স্কট বেসান্ট, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী হিসেবে কিস্টি নয়েম, জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে ক্রিস ওয়েট, পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে শেন ডাফি, সিআইএ প্রধান হিসেবে জন র্যাটক্লিফ, এফবিআই প্রধান হিসেবে কাশ প্যাটেল ও ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের ডাইরেক্টর হিসেবে তুলসি গ্যাবার্ড মনোনীত হয়েছেন।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে প্রথা ভেঙে ক্যাপিটল হিলের রোটুন্ডারে বা ভেতরে নির্ধারিত হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ৪০ বছরের মধ্যে শীতলতম আবহাওয়ায় এবারের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মাইনাস চার ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পূর্বাভাস করা হয়েছে।
এদিকে শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস অংশ নিয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্টদের মধ্যে বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া টেক টাইকুন ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস, মার্ক জুকারবার্গ ও মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জ্যাভিয়ার মিলেই ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন।
ড. ইউনূসের শুভেচ্ছা
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন হবে। এ লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতে দুই দেশ একত্রে কাজ করবে।