শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন

উলিপুর প্রেসক্লাব দখলের অভিযোগ ইসকনের বিরু‌দ্ধে

  • সময়: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ২.২২ পিএম
  • ৩৪ জন

| মমিনুল ইসলাম, উলিপুর, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

 

গত ৫ আগস্টের পর কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী উলিপুর প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করে দখল, লুটপাট, চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে সুবিধা ভোগকারী কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের বিরুদ্ধে ইসকনের সক্রিয় সদস্য ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। তারা একদল বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে উলিপুর প্রেসক্লাব দখলের নীলনকশা বাস্তবায়ন করে।

আরো অভিযোগ, ওই চক্রটি হঠাৎ করেই একটি বিতর্কিত কমিটি গঠন করে প্রেসক্লাবটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। এরপর থেকেই ক্লাবটি কার্যত দখলে রেখে এবং প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির চালাতে থাকে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট চক্রটির নিজস্ব আরেকটি ক্লাব থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উলিপুর প্রেসক্লাব দখলের পেছনে ছিল সুস্পষ্ট আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এলাকায় একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার এবং ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
আরও অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে একদল সুযোগসন্ধানী লুটেরাকে ব্যবহার করে প্রেসক্লাব ভবনে হামলা চালানো হয়। এ সময় ভাঙচুর চালিয়ে ক্লাবটির প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয় এবং ঘটনাকে আড়াল করতে সেখানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটানো হয়।

 

এদিকে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ আসন থেকে ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর উলিপুরের সামগ্রিক পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। দীর্ঘদিনের অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে এলাকায় ধীরে ধীরে শান্তির সুবাতাস বইতে থাকে। এতে বেকায়দায় পড়ে কথিত দখলদার চক্রটি।
পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দেখে তারা নতুন করে নানা ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসন হস্তক্ষেপে বাধ্য হয়। প্রথমে প্রেসক্লাব ভবনে তালা দেওয়া হয় এবং পরে গত ১১ মার্চ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঐতিহ্যবাহী উলিপুর প্রেসক্লাব ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সিলগালা করা হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর উলিপুরসহ পুরো কুড়িগ্রাম জেলার সাংবাদিক সমাজ, সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মর্যাদার ওপর নগ্ন আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দখলদার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহামুদুল হাসান বলেন, দুই পক্ষে সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সিলগলা করা হয়েছে। উলিপুর প্রেস ক্লাব সাবেক সভাপতি পরিমল মজুমদার জানান তথাকথিত একটি দখলদার বাহিনী উলিপুর প্রেসক্লাব টিকে দখল করে নিয়ে ছিল যা কখনো সমীচীন হয়নি। আমি যতদিন বেঁচে আছি অন্যায়ের বিপক্ষে অভিরাম প্রতিবাদ আমার চলবে।

 

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2025 © All rights reserved by BUD News 24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com