| কামরুল হাসান পলাশ
অনলাইনের ঝামেলা বাতিল, সশরীরে সাংবাদিক কার্ড দেবে ইসি
নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে বড় স্বস্তি গণমাধ্যমকর্মীদের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সাম নে রেখে সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও সাংবাদিক নেতাদের দাবির মুখে অবশেষে অনলাইন আবেদন পদ্ধতি বাতিল করে ম্যানুয়ালি বা সশরীরে সাংবাদিক কার্ড ও গাড়ির স্টিকার ইস্যুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এতে করে নির্বাচনী মাঠে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা দূর হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, অনলাইন প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের যে জটিলতা ও ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনের লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই ম্যানুয়ালি কার্ড ইস্যুর বিস্তারিত প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।
জ্যেষ্ঠ সচিব আরও জানান, যারা ইতোমধ্যে অনলাইনে সফলভাবে আবেদন করেছেন, তাদের আবেদন যথাযথভাবে প্রক্রিয়াধীন থাকবে। তবে যারা আবেদন করতে পারেননি বা কারিগরি সমস্যায় পড়েছেন, তাদের নতুন করে অনলাইনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তারা সরাসরি নির্বাচন ভবনে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সাংবাদিক কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।
এর আগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অজুহাতে অনলাইন পদ্ধতি চালু করলেও ইসির পোর্টালটি ব্যবহারবান্ধব না হওয়ায় মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা ব্যাপক সমস্যায় পড়েন। আবেদন করতে গিয়ে বারবার সার্ভার জট, তথ্য আপলোড ব্যর্থতা ও যাচাই জটিলতায় কাজের সময় নষ্ট হচ্ছিল। এতে নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক নেতারা ইসির কাছে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান এবং ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আল্টিমেটাম দেন। আল্টিমেটামের আগেই কমিশন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় গণমাধ্যম অঙ্গনে স্বস্তি ফিরেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনী মাঠের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে প্রযুক্তিগত জটিলতা নয়, বরং সহজ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা দরকার। ইসির নতুন সিদ্ধান্তে গণমাধ্যমগুলো এখন মনোনীত প্রতিনিধিদের নিয়ে সরাসরি যোগাযোগ করে কার্ড সংগ্রহ করতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অন্যতম শর্ত হলো অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা। সাংবাদিকদের কাজ সহজ করা মানেই জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছানোর পথ প্রশস্ত করা। ইসির এই সিদ্ধান্ত সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।