সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় পণ্য বর্জনের প্রচারণা চলছিল গত দুই বছর ধরে। এর মধ্যে বাংলাদেশে ভারতীয় সমর্থনপুষ্ট আওয়ামী লীগের পতন হয়। প্রতিবেশী দেশের পণ্য বয়কটের প্রচারণা এবং আওয়ামী লীগের পতন দুয়ে মিলে এবার ঈদ বাজারে ক্রেতারা ভারতীয় পোশাকের প্রতি আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
ফলে দেশের বিভিন্ন শপিং মলে ভারতীয় পণ্যের বিক্রি কমে গেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। অন্যদিকে দেশি সুতি পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে। তবে কিছু ব্যবসায়ী এখন চাহিদার কথা বিবেচনা করে থাইল্যান্ড, চীন, পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুরের পণ্য আমদানির চেষ্টা করছেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মল ঘুরে এসব তথ্য জানা যায়।
রাজধানীর পল্টন এবং নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সবগুলো মার্কেটেই উপচে পড়া ভিড়। ঈদের আগে নিজের পছন্দমতো পোশাক নিচ্ছেন ক্রেতারা। পোশাকের দোকানে দেখা গেছে বেশি ভিড়। এসব দোকানে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে সুতি পোশাক। কারণ এবার ঈদের সময় তাপমাত্রা থাকতে পারে বেশি। এ সময় সুতি কাপড় পরলে স্বস্তি পাওয়া যাবে।
জানা যায়, রাজধানীর পলওয়েল সুপার মার্কেট দেশের একমাত্র বৃহত্তম বৈদেশিক পণ্যের মার্কেট। যেখানে এক ছাদের নিচে ঈদের সব শপিং করা যায়। পলওয়েল থেকে শুরু করে ছোট-বড় শপিংমলে আগে ভারতের মুম্বাই ও কলকাতার থ্রি-পিসসহ মেয়েদের বিভিন্ন আইটেমের পোশাক বিক্রি হতো।
কিন্তু এবার সেই রমরমা আর নেই। ক্রেতারা পাকিস্তানের গুলজি, মীর্জা, আগানূর, তায়াক্কাল, রাঙরাসিয়া, রুহাই সাকুন, মাহাজাল, বিনসাইদ, বিনহামিদ, মার্শাল, আলিয়াসহ আরো বেশকিছু ব্র্যান্ডের থ্রি-পিস কিনছেন। নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ দেশীয় ব্র্যান্ডের পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। তবে পণ্যের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তুষ্টি দেখা গেছে।
পল্টন এলাকায় ঈদের বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাইমুম শাহরিয়ার বলেন, দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে ইফতার শেষ করে ঈদের শপিং করতে এলাম। সব দামের ও মানের পোশাক পাওয়া যায় এ এলাকার মার্কেটগুলোতে। তবে এবার দাম একটু বেশি।
ঈদে অনেকেই জামার সঙ্গে মিলিয়ে নতুন ব্যাগ ও জুতা কেনেন, ফলে চাপ দেখা যায় জুতা-ব্যাগের দোকানগুলোতেও। পল্টনের এই মার্কেটগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুতা। নকশার পাশাপাশি জুতার রং ও মানে দেখা গেছে বৈচিত্র্য। পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে কেডস পরতে চাইলে গুনতে হবে ১ থেকে ৩ হাজার টাকা। চামড়ার বিভিন্ন জুতাও পাওয়া যাচ্ছে দোকানগুলোতে। ব্যাগ ও জুতার দোকানের বেশির ভাগ জুতাই এসেছে চীন থেকে।
অন্যদিকে বিগত বছরগুলোতে যারা বিদেশি পণ্য কিনতেন তারা এ বছর দেশি পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। তারা বেইলি রোডে আড়ং, ফড়িং, জেন্টেল পার্ক, রঙ, অঞ্জনস, প্রিন্স প্লাজা, কে-ক্রাফট, টুয়েলভ, ইনফিনিটি, সেইলর, আর্ট, ক্যাটসআই, দর্জিবাড়িসহ আরো বেশকিছু দেশীয় ফ্যাশন হাউসে ভিড় করছেন।
ঈদ বাজারের সার্বিক বিষয়ে দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল আমার দেশকে বলেন, এ বছর ভারতীয় পণ্য দেশে আনার কোনো সুযোগই নেই। আগে যা মার্কেটে স্টক ছিল সেগুলোই টুকটাক চলছে। এ বছরে দেশীয় গার্মেন্টসগুলো বরং গুণগত মান বজায় রেখে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করছে।
রাজধানী মার্কেটের হাসান ফ্যাশনের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেল বাজারের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে আমার দেশকে বলেন, এ বছর ঈদের বাজারে ৬০ শতাংশ পণ্য দেশীয়। বাকিগুলো পাকিস্তানি, থাইল্যান্ড ও চায়নার। ভারতীয় পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ নেই বললেই চলে।