রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
আজকের শীর্ষ সংবাদ:

বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে ১৭ ডলার!

  • সময়: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২.৫৮ পিএম
  • ২৪ জন

বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে ১৭ ডলার!

ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সৃষ্ট সংকটে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের গড় ভাড়া ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার থেকে বেড়ে ২০ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ব্যারেলপ্রতি পরিবহন ভাড়া বেড়েছে ১৭ ডলার।

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা, তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং যুদ্ধের ঝুঁকির কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। এ সংকট শিগগিরই কাটার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস।

প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির উন্নতির স্পষ্ট লক্ষণ না থাকায় স্বল্প মেয়াদে তেল পরিবহনের ভাড়া ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামেও নতুন করে চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে তেল পরিবহনের ভাড়া ব্যারেলপ্রতি বেড়ে ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধঝুঁকির কারণে ব্যারেলপ্রতি অতিরিক্ত ৭ ডলার, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে ৪ ডলার এবং ওমান উপসাগরে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের জন্য আরও ৪ ডলার ব্যয় হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে থাকতে পারে। তবে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জাহাজে আরও হামলা, তেল অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে দাম এ পূর্বাভাস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১০৯ দশমিক ৩৪ ডলার। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৪৭ ডলার।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলবাহী সুপারট্যাংকারের ভাড়াও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত সেপ্টেম্বরে পারস্য উপসাগর থেকে চীন পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিবহনে একটি সুপারট্যাংকারের দৈনিক ভাড়া ছিল ১০ লাখ ডলার। অক্টোবরের শুরুর দিকে পারস্য উপসাগর থেকে পূর্ব এশিয়ায় তেল পরিবহনে সেই ভাড়া ১৪ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

হরমুজ প্রণালির বাইরে ওমান উপসাগরে বড় ট্যাংকারগুলোকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সেখান থেকে ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে, যা ‘শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার’ নামে পরিচিত। এ প্রক্রিয়ায় জাহাজের যাত্রার সময় বাড়ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকায় বিশ্ববাজারে ব্যবহারের উপযোগী সুপারট্যাংকারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে তেল উৎপাদক ও ক্রেতারা আফরাম্যাক্স ও সুয়েজম্যাক্সের মতো তুলনামূলক ছোট ট্যাংকারের দিকে ঝুঁকছেন।

বিশ্ববাজারভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে হামলার পর তেল সরবরাহ আবারও কমেছে। গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পারস্য উপসাগর থেকে দৈনিক তেল সরবরাহ কমে ৮৫ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও এ সরবরাহ ছিল দৈনিক ২ কোটি ব্যারেলের বেশি।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তেল সরবরাহে এ সংকট দীর্ঘায়িত হলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়বে। এর পাশাপাশি পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচেও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: অয়েলপ্রাইস ডটকম

 

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by BUD News 24