শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন

মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনে সেনেগালকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম

  • সময়: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৫.৩৪ পিএম
  • ১৪ জন

বিশ্বকাপের মঞ্চে কিছু ম্যাচ শুধু জয়ের গল্প নয়, হয়ে ওঠে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। সিয়াটলে ঠিক তেমনই এক রাত উপহার দিল বেলজিয়াম। একসময় দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বিদায়ের প্রহর গুনছিল ইউরোপের দলটি। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে বদলে গেল সবকিছু। নির্ধারিত সময়ের শেষ ভাগে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় তারা। এরপর অতিরিক্ত সময়ের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে পাওয়া পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করে ৩-২ ব্যবধানে সেনেগালকে হারিয়ে জায়গা করে নেয় শেষ ষোলোয়।

ম্যাচের অধিকাংশ সময়ই নিয়ন্ত্রণে ছিল সেনেগাল। আফ্রিকার প্রতিনিধিরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে বেলজিয়ামকে প্রায় বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়। সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই মনে হচ্ছিল সেনেগালই নিশ্চিত করতে যাচ্ছে শেষ ষোলোর টিকিট।

কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্যই হয়তো অনিশ্চয়তা। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে রোমেলু লুকাকু ব্যবধান কমিয়ে নতুন করে আশার আলো জ্বালান। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৮৯তম মিনিটে ইউরি টিলেমান্স সমতাসূচক গোল করে ম্যাচে প্রাণ ফিরিয়ে আনেন। মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের আবহ। ২-২ সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়, লড়াই গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে দুই দলই সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচ এগোচ্ছিল টাইব্রেকারের দিকেই। তবে শেষ মুহূর্তে নাটকীয় মোড় নেয় লড়াই।

ডান দিক থেকে টিমোথি কাস্তানিয়ের নিচু ক্রসের সময় ইউরি টিলেমান্সকে ফাউল করা হয়েছে বলে জোরালো আবেদন জানায় বেলজিয়াম। রিপ্লেতে দেখা যায়, সেনেগালের লামিনে কামারা বল স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন। ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করার পর স্পটকিকের নির্দেশ দেন ম্যাচের রেফারি।

এর আগে অবশ্য ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ডোডি লুকেবাকিও। গোল থেকে মাত্র ১১ গজ দূরে দাঁড়িয়ে নেওয়া তার জোরালো শট ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে। ভাগ্য যেন তখনও বেলজিয়ামকে অপেক্ষা করাচ্ছিল।

অবশেষে ম্যাচের ১২৫তম মিনিটে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন ইউরি টিলেমান্স। চরম চাপের মুহূর্তেও অসাধারণ স্থিরতা দেখিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান তিনি। গোলের সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে বেলজিয়ামের ফুটবলার ও সমর্থকেরা। শেষ বাঁশি বাজতেই নিশ্চিত হয় অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প।

দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতে নেওয়ার এই কীর্তি শুধু বেলজিয়ামকে শেষ ষোলোর টিকিট এনে দেয়নি, চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচগুলোর তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে। যে ম্যাচে একসময় নিশ্চিত পরাজয় মনে হচ্ছিল, সেই ম্যাচই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল বেলজিয়ামের অদম্য লড়াই, বিশ্বাস আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল না ছাড়ার অনন্য উদাহরণ। 

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by BUD News 24