হরমুজ প্রণালিতে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এর আগে ওই অঞ্চলের জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর গোরুক ও কেশম দ্বীপের রাডার ও নজরদারি স্থাপনায় এ হামলা চালানো হয়।
মার্কিন সূত্রের দাবি, ইরানের ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক নৌপথের জন্য হুমকি তৈরি করছিল। যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হতো। বর্তমানে প্রণালিটির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশ পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরান তেল রপ্তানি থেকে আটকে থাকা অর্থ ফেরত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বন্দর অবরোধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে দেশটির হাতে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানের আগের সামরিক সক্ষমতার তুলনায় এখন মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে।
ইরান চুক্তিতে আসতে দেরি করছে কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও সিদ্ধান্ত নিতে তাদের কিছুটা সময় লাগছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। এপ্রিলের শুরুতে সাময়িক বিরতি এলেও সম্প্রতি উভয় পক্ষ আবারও একে অপরের স্থাপনায় হামলা শুরু করেছে। এর মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স