রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩০ অপরাহ্ন

চাঁদে আঘাত হানতে যাচ্ছে স্পেসএক্সের রকেট

  • সময়: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৯.৩৩ এএম
  • ১৩ জন

বহু বছর ধরে মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো আমেরিকান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের একটি নিষ্ক্রিয় রকেটের উপরের ধাপ চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে। ঘণ্টায় প্রায় আট হাজার ৭০০ কিলোমিটার গতিতে ফ্যালকন-৯ নামে রকেটের অংশটি চাঁদে আঘাত হানবে, যা শব্দের গতির প্রায় সাতগুণ।

এর ফলে চাঁদে একটি বড় গর্ত তৈরির পাশাপাশি মহাকাশে বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়বে, যা পর্যবেক্ষণের জন্য অপেক্ষায় আছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

আগামী ৫ আগস্ট স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে রকেটটির চাঁদে আঘাত হানার কথা রয়েছে। যথেষ্ট শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে ইতিহাসের এই বিরল ঘটনা দেখার সুযোগ মিলতে পারে। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এমনটি ঘটলে সেটি হবে প্রথম ঘটনা। এর আগে চাঁদের সূর্যালোকিত অংশে কোনো মহাজাগতিক বস্তুর আঘাতের দৃশ্য পৃথিবী থেকে রেকর্ড করা হয়নি। 

গবেষকদের ধারণা, কঠিন উল্কাপিণ্ডের মতো গভীর গর্ত তৈরি না করে রকেটটির খোলস ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। এতে প্রায় ১৮৩ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ধুলার পর্দা তৈরি হতে পারে।

টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী লরেন্স ট্র্যাফটন বলছেন, ধুলার মেঘ যদি চাঁদের কিনারা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে যায়, তাহলে ছোট আকারের টেলিস্কোপেও সেটি আলাদা করে শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। তবে এতে বড় বাধা হতে পারে চাঁদের নিজের উজ্জ্বল আলো। শুধু বিরল দৃশ্য দেখাই নয়, বিজ্ঞানীদের কাছে এ সংঘর্ষের গুরুত্ব আরো বেশি। অতীতেও চাঁদের মাটি ও অভ্যন্তর সম্পর্কে জানার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে মহাকাশযান আছড়ে ফেলা হয়েছিল।

১৯৯৯ সালে নাসার লুনার প্রসপেক্টর মহাকাশযান চাঁদে আঘাত করে পানির সন্ধান করার চেষ্টা করেছিল, যদিও তাতে সফলতা আসেনি। পরে ২০০৯ সালে আরেকটি অভিযানে চাঁদে আঘাত হানা একটি রকেটের ওড়ানো ধুলার মেঘে পানির বরফের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

২০২২ সালেও একটি পরিত্যক্ত রকেট চাঁদে আঘাত করেছিল। শুরুতে সেটিকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ বলে ধারণা করা হলেও পরে গবেষকরা জানান, সেটি সম্ভবত চীনের ব্যবহৃত একটি রকেট ছিল।

এ সংঘর্ষ ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নাসা আবার চাঁদে নভোচারী পাঠাতে চায়। দীর্ঘমেয়াদে সেখানে ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে চীনও।

সব মিলিয়ে বুধবারের অনাকাঙ্ক্ষিত এ সংঘর্ষ শুধু একটি বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়; ভবিষ্যতের চন্দ্রানুসন্ধান ও মানব অভিযানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এনে দিতে পারে।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by BUD News 24