শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

গ্রেপ্তার এড়াতে চারবার বাসা বদলান শিরীন শারমিন

  • সময়: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯.১২ এএম
  • ২৮ জন

প্রায় ২০ মাস আত্মগোপনে থাকার পর গত মঙ্গলবার ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন। আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে স্পিকার কিছু কথা অকপটে বলেছেন, আবার কিছু কথা গোপন করেছেন।

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে শিরীন শারমিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ক্যান্টনমেন্টে (সেনা হেফাজতে) আশ্রয় নেন। ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি সেনা হেফাজত থেকে বের হয়ে আসেন। এরপর তিনি উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে এক আত্মীয়র বাসায় ওঠেন।

গ্রেপ্তার হওয়ার আগে স্পিকার চারটি বাসা পরিবর্তন করেন। সবশেষ তিনি ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসায় ছিলেন। সেখান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, লোক মারফত আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের মধ্যম সারির কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। ওইসব নেতা তার খুবই ঘনিষ্ঠ। ‘রিফর্মড’ আওয়ামী লীগ গঠনে তিনি জড়িত ছিলেন না বলে ডিবি কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করেছেন। তবে তিনি লোক মারফত শুনেছেন, শেখ হাসিনাবিহীন রিফর্মড আওয়ামী লীগ গঠনের জন্য দেশি-বিদেশি একাধিক মহল সক্রিয় হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল তাজকে রিফর্ম আওয়ামী লীগ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রথমে সরাসরি না করেননি, কিছুদিন সময় নিয়েছিলেন। পরে সোহেল তাজ দলের কোনো দায়িত্ব নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে গতকাল বুধবার বিকালে জানান, ডিবি পুলিশ তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তিনি কিছু কথা বলেছেন। তার কথাগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে শিরীন শারমিন দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বেলজিয়াম পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল। তারা তাকে নানাভাবে রিফর্মড আওয়ামী লীগ গঠনে প্ররোচনা দিয়েছিলেন। শিরীন দাবি করেছেন, দুই নেতার কথায় তিনি সাড়া দেননি। এছাড়া আর কোনো বড় নেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়নি।

ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো মাধ্যমে তার যোগাযোগ ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।

শিরীন শারমিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি ঘাবড়ে যান। তিনি গ্রেপ্তার আতঙ্কে ছিলেন। নতুন সরকার আসার পর তিনি আশায় ছিলেন হয়তো তাকে গ্রেপ্তার হতে হবে না। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ডিবি জানিয়েছে, শিরীনের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যেসব মধ্যম সারির নেতার যোগাযোগ ছিল, তাদের তালিকা করছে ডিবি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলের সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ডিবি।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, ডিবি পুলিশ শিরীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করছিল। কিন্তু আদালত রিমান্ড আবেদন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠায়। মামলা তদন্তের স্বার্থে তার আবারও রিমান্ড আবেদন করবে ডিবি পুলিশ। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে পরে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2025 © All rights reserved by BUD News 24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com