রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় আর কোনো নিখোঁজের দাবি না থাকায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করে।
জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে যে ৩ নম্বর পন্টুন থেকে যাত্রীবাহী বাসটি নদীতে পড়ে গিয়েছিল, সেটি সরিয়ে ঘটনাস্থলের পানির নিচে আরও বিস্তৃতভাবে তল্লাশি চালানো হয়। ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল নদীর তলদেশ এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান চালালেও নতুন করে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, সবশেষ যাকে নিখোঁজ বলে দাবি করা হচ্ছিল—ইটভাটা শ্রমিক রিপন—তার সন্ধান ঢাকায় পাওয়া গেছে। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেছেন। ফলে বর্তমানে আর কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ নেই বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শনিবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ডুবুরি দল মূলত সেই নির্দিষ্ট স্থানটিকেই কেন্দ্র করে তল্লাশি চালায়, যেখানে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। একইসঙ্গে স্পিডবোট ব্যবহার করে নদীর আশপাশেও খোঁজ চালানো হয়—কোনো মরদেহ স্রোতে ভেসে গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য। তবে কোথাও কোনো মরদেহের সন্ধান মেলেনি।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, চতুর্থ দিনের মতো শনিবার সকাল ৯টা থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। এতে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের বিশেষ ডুবুরি দল অংশ নেয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালানোর পরও নতুন কোনো লাশ উদ্ধার না হওয়ায় এবং নিখোঁজের দাবি না থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সন্ধ্যায় অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, বাসডুবির কারণ অনুসন্ধানে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে বলেন, দুর্ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দীর্ঘ চার দিনের অনুসন্ধান শেষে নিখোঁজের আর কোনো দাবি না থাকায় আপাতত শেষ হয়েছে উদ্ধার তৎপরতা। এখন দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায় নিরূপণের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।