শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান

  • সময়: শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ৯.২৯ এএম
  • ৩৭ জন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পর গতকাল শুক্রবার রাতে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এ দায়িত্ব নেন।

শুক্রবার রাত ৯টায় তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, আজ রাত ৯টায় (শুক্রবার) দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থায়ী কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দল পরিচালনায় তার সফলতা কামনা করে দোয়া করেছেন।

এর মাধ্যমে বিএনপির চতুর্থ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান। বিচারপতি সাত্তারের নেতৃত্বে তিন বছরের ব্যতিক্রম ছাড়া দলটির নেতৃত্বে বরাবরই জিয়া পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

তারেক রহমান ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। তখন থেকেই তিনি স্বৈরাচারবিরোধী ও গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

দীর্ঘদিন নানা জটিল রোগে ভুগে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচির কারণে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয় বিএনপিকে।

তারেক রহমান এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় মায়ের সঙ্গে রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৮৮ সালে তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তুলে তিনি স্বৈরাচারী এইচ এম এরশাদের সরকারের পতনে ভূমিকা রাখেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় সব জেলায় গণসংযোগ ও প্রচারণায় অংশ নেন। ওই নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির সম্মেলনের আয়োজন করে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের নজির স্থাপন করেন তারেক রহমান। পরবর্তীতে অন্যান্য জেলা ইউনিটকেও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতা নির্বাচনে উৎসাহিত করেন তিনি।

২০০১ সালের নির্বাচনের আগে স্থানীয় সমস্যা, সুশাসন ও নীতিনির্ধারণ বিষয়ে গবেষণার জন্য ঢাকায় একটি গবেষণা ও সমন্বয় অফিস প্রতিষ্ঠা করেন। বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার ফলেই ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে বলে দলীয় সূত্র দাবি করে। সংগঠনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালে তাকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করা হয়।

২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের আয়োজন করেন এবং প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।

২০০৭ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সামরিক শাসকদের ক্ষমতা দখলের পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই সময় তাকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে তিনি লন্ডনে যান।

বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দল পরিচালনা ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করলেন তারেক রহমান।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2025 © All rights reserved by BUD News 24
Developed BY www.budnews24.com