এই ম্যাচে আলোচনার নাম ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগান। আগের ম্যাচে লাল খেয়ে এই ম্যাচে তার খেলার কথা না থাকলেও ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মাঠে নামেন বালোগান। তবে এই ফরোয়ার্ডের ফেরাও মাঠে খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বেলজিয়ামের দাপুটে ফুটবলের সামনে উড়ে গেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে চার্লস ডি কেটেলাইরের জোড়া গোলে সহ-স্বাগতিকদের ৪-১ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি।
বেলজিয়ামের হয়ে প্রথমার্ধে দুই গোল করেন চার্লস ডি কেটেইলার। দ্বিতীয়ার্ধে একটি করে গোল করেন হ্যান্স ভানাকেন ও তারকা খেলোয়াড় রোমেলু লুকাকুু। প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে একটি গোল শোধ করেন মালিক তিলমান।
কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ ইউরোপের অন্যতম সেরা দল স্পেন। যারা রাতের অন্য ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। ১১ জুলাই রাত ১টায় সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। নবম মিনিটে চার্লস ডি কেটেলাইরের গোলে এগিয়ে যায় তারা। গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, আর মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারির উচ্ছ্বাস।
তবে ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি মার্কিনরা। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে সমতায় ফেরান মালিক তিলমান। গোলের পর নতুন উদ্দীপনায় খেলতে শুরু করে স্বাগতিকরা।
কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। সমতায় ফেরার মাত্র দুই মিনিট পরই আবারও আঘাত হানে বেলজিয়াম। লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের নিখুঁত ক্রসে হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন চার্লস ডি কেটেলাইরে। তাতেই আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।
প্রথমার্ধের বাকি সময় দুই দলই একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও আর কোনো গোলের দেখা মেলেনি। ফলে ২-১ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে চাপ ধরে রেখে খেলে যায় বেলজিয়াম। ফল আসে ৫৭তম মিনিটে। আগের দুই গোলের কারিগর কেটেলাইর এবার সহায়তাকারীর ভূমিকায়। তার পাস থেকে ৫৭তম মিনিটে জাল খুঁজে নেন হ্যান্স ভানাকেন।
এরপর দুদল একের পর এক আক্রমণ করে যায়। বেলজিয়াম রক্ষণ শক্ত করায় জোর দেয়। যুক্তরাষ্ট্র খেলোয়াড় বদলি করেও স্কোরলাইন পাল্টাতে পারেনি। রক্ষণ জমাট করার ফাঁকেই শেষদিকে আরেকবার ভেলকি দেখায় বেলজিয়াম।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে হঠাৎ করেই বল নিয়ে পাল্টা আক্রমণে ওঠেন তৃতীয় গোলদাতা ভানাকেন। তিনি দুর্দান্ত এক পাস বাড়ান রোমেলু লুকাকুর দিকে। তারকা খেলোয়াড় কোনো ভুল করেননি। শেষ পেরেকটা ঠুকে দেন স্বাগতিকদের কফিনে। ফলে দুর্দান্ত জয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।