রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন

মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় জবি শিক্ষকের ওপর হামলা, আসামি কারাগারে

  • সময়: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮.৪৯ এএম
  • ৩৩ জন

| ফাহিমা আক্তার, জবি প্রতিনিধি

 

ঢাকার কেরাণীগঞ্জে মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষক ও তার পিতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঢাকার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তানভীর আহমেদ আসামি এহসানুর হক মাহিম (২২)-কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী রোববার (১২ এপ্রিল) মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকের আইনজীবী খালিদ হোসাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত মাহিমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। পরে শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর সড়ক-২ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলামের বাড়ির সামনে দীর্ঘদিন ধরে আড্ডাবাজি ও মাদক সেবন করে আসছিল অভিযুক্ত মাহিম। বিষয়টি নিয়ে নিষেধ করলে তিনি বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন।

ঘটনার দিন শিক্ষক রাইসুল ইসলামের পিতা নজরুল ইসলাম (৬৭) অভিযুক্তকে আড্ডা দিতে নিষেধ করলে মাহিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। পরে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে তা চোখের নিচে লেগে তিনি রক্তাক্ত জখম হন।

এ সময় ডাকচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

এ ঘটনায় শিক্ষক রাইসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার পিতার পকেটে থাকা নগদ প্রায় ৬ হাজার টাকা অভিযুক্ত কৌশলে নিয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিষয়টি গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে।

এদিকে, শুক্রবার আদালতে আসামিকে তোলার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2025 © All rights reserved by BUD News 24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com