রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
জামালপুরে জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ড. কেরামত আলীর ২০ দফা ইশতেহার ঘোষণা শুধু জনপ্রতিনিধি নয়, এই নির্বাচন দেশ পুনর্গঠনের : তারেক রহমান বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ‘ঘনিষ্ঠতা’, যা বলল ভারত রাজনীতি করেন, কিন্তু মিথ্যা বলবেন না – জামায়াতের উদ্দেশে ফখরুল নওগাঁয় নির্বাচনী নিরাপত্তায় ২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ঠাকুরগাঁওয়ে এবার গমের বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা কৃষকের ‘প্রিয় বন্ধু মোদিকে ট্রাম্পের উপহার’, ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক প্রত্যাহার চলতি অর্থবছরের বাজেট নিয়ে কী ভাবছে বিএনপি-জামায়াত জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যে সরকার গঠন করবে না বিএনপি

চলতি অর্থবছরের বাজেট নিয়ে কী ভাবছে বিএনপি-জামায়াত

  • সময়: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ৯.৩৪ এএম
  • ২২ জন

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে নির্বাচিত সরকারের কাঁধে যাচ্ছে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব। বিএনপি এবং জামায়াত জোটের মধ্যে চলছে ক্ষমতায় যাওয়ার তীব্র লড়াই। এ দুই জোটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কারা বিজয়ী হবে, তা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে বিভিন্ন আলোচনা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমেই পাওয়া যাবে বিজয়ী দলের নাম।

নির্বাচনে বিজয়ী হতে দুই জোটের মধ্যে যেমন চলছে বাগ্‌যুদ্ধ, তেমনি রয়েছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। আগামী দিনে দেশের সাধারণ মানুষের ভাগোন্নয়নের কথা বললেও দল দুটির কৌশলে রয়েছে ভিন্নতা। জনগণের সমর্থন আদায়ে অঞ্চলভিত্তিকও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন প্রধান দুই জোটের শীর্ষ নেতারা। সাধারণত বাজেটের মাধ্যমেই নির্বাচিত সরকার তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে থাকে। তবে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলেও চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) বাজেট কাঠামোয় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসছে কিÑএমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।

তবে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে চলতি অর্থবছরের বাজেট নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা পর্যালোচনা হয়নি বললেই চলে। ফলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যে বাজেট ঘোষণা করেছে, সেটিই বাস্তবায়ন করবে নাকি বড় ধরনের পরিবর্তন হবেÑসেটি স্পষ্ট নয়।

বিএনপির নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এক উপদেষ্টা আমার দেশকে বলেন, নির্বাচনের পরপরই রমজান মাস শুরু হবে। বিএনপি জনগণের রায়ে সরকার গঠনে সমর্থ হলে রমজান মাসে পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সব ধরনের প্রচেষ্টা থাকবে। প্রয়োজনবোধে বাজার স্থিতিশীল রাখতে পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে বলে জানান তিনি।

অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে চলতি অর্থবছরের বাজেট নিয়ে কোনো ধরনের পর্যালোচনা হয়নি বলে আমার দেশকে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, যদি আমরা জনগণের সমর্থন পেয়ে সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। দলীয় ফোরামে আলোচনা ছাড়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

এদিকে, নতুন সরকারের পক্ষে চলতি অর্থবছরের বাজেটে কাঠামোগত বড় ধরনের পরিবর্তন করা সহজ হবে না বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সদস্য আমার দেশকে জানান। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের পাঁচ মাসেরও কম সময় বাকি আছে। এ সময় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনতে গেলেও সময় প্রয়োজন। কিন্তু সে পরিবর্তন বাস্তবায়ন চলতি অর্থবছরে শুরু করা খুবই কঠিন হবে।

তিনি আরো বলেন, সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস থেকেই পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। সে হিসাবে আমরা নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের জন্য কাজ করব। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের বাজেট কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলেও সেটির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

এনবিআরের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) যেসব প্রকল্প রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুমোদন কিংবা কিছু কর্মসূচি অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টি নির্বাচিত সরকার নতুন করে বিবেচনা করতে পারে।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ চলতি অর্থবছরের জন্য সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় হিসাবে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬০৯ কোটি টাকার মধ্যে এডিপির পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। বাকি পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা পরিচালন আবর্তক ব্যয়, পরিচালন মূলধন ও অন্যান্য ব্যয় হিসাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। মোট রাজস্ব আয় ধরা হয় পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় চার লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। তবে পরে সংশোধিত বাজেটের আকার দুই হাজার কোটি টাকা কমিয়ে দুই লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করে সরকার।

অপরদিকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয় দুই লাখ কোটি টাকা।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রমজান মাস ছাড়াও অন্যান্য সময়ও যাতে পণ্যের দাম সহনীয় অবস্থায় থাকে, সে বিষয়ে উদ্যোগ থাকবে।

বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে অনেকটা পিষ্ট সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। খাদ্যে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির এ হার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের বেশি থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর বেশিরভাগেই তা ৫ শতাংশের নিচে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মালদ্বীপে মূল্যস্ফীতি ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, পাকিস্তানে ৪ শতাংশ এবং ভারতে মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে ভুটান ও নেপালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় মাত্র দশমিক ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষা উপকরণের দাম কমানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার কথা বলেছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। তারা জানান, শিক্ষা খাতে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। আগামী বাজেটে সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রত্যেক পরিবারের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে দলটির। নির্বাচনে বিজয়ী হলে আগামী বাজেটে সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ থাকবে। চলতি অর্থবছরে এ খাতেও বেশকিছু পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা রয়েছে বিএনপির।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তনের বিষয়টি কার্যকর সম্ভব কি নাÑজানতে চাইলে এনবিআরের নীতি শাখার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, সরকার প্রয়োজনে যেকোনো পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমাতে পারে। কিন্তু শুধু শুল্ক কমালেই হবে না, রাজস্ব আয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে শুধু দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করলে হবে না, স্থানীয় শিল্প সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শুল্কহার কমালে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমবে। কিন্তু রাজস্ব আয় কমলে সরকারের ব্যয় মেটানো দুরূহ হয়ে পড়বে। বর্তমানে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, সেটি অর্জন করা খুবই কঠিন। এর মধ্যে শুধু শুল্ক কমানোর চিন্তা করলে সরকারের পক্ষে রাষ্ট্র চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরো বলেন, নতুন সরকারের আমলে পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে বড় ধরনের চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারের আয় বাড়ানোর বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। যদি আয় না বাড়ে, তাহলে সরকারকে ঋণ করতে হবে। বর্তমানে এমনিতেই বড় ঋণের বোঝা রয়েছে। নতুন করে ঋণ নিতে গেলে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হবে। এছাড়া চলতি বছর এলডিসি উত্তরণের ফলেও অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। এ অবস্থায় চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ণে নতুন সরকারের জন্য বড় ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে বলে এনবিআরের ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2025 © All rights reserved by BUD News 24
Developed BY www.budnews24.com