বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন

বাজারে রমজানের উত্তাপ

  • সময়: রবিবার, ২ মার্চ, ২০২৫, ১১.১৭ এএম
  • ৪২ জন

পবিত্র মাহে রমজান শুরু হয়েছে। তবে রোজা শুরুর দুই-তিন দিন আগে থেকেই কেনাকাটার ধুম পড়েছে বাজারে। সে উত্তাপ এখনো বাজারে। রমজানের কারণে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিতে বেশকিছু পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী লক্ষ্য করা গেছে।

রমজানে ভোজ্যতেলের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি। কোনো কোনো বাজারে সয়াবিন তেল পাওয়াই যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। যেখানে পাওয়া যাচ্ছে সেখানেও তেলের চড়া দাম ক্রেতাদের অস্বস্তিতে ফেলছে। ছোলার দাম কমলেও শসা ও বেগুনের দাম দ্বিগুণেরও বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল কোনো পণ্যের সংকট হবে না। তবে বাজারে এর প্রভাব পড়ছে না।

রাজধানীর নয়াবাজার, হাতিরপুল ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে আসা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুচরা দোকানে পাওয়াটা তো দূরের কথা, সুপারশপগুলোতেও বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো খুচরা দোকানে সর্বোচ্চ এক লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু তার জন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম।

শুক্রবার রাজধানীতে সাংবাদিকদের সামনে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যেই তেল, খেজুর, ছোলাসহ রমজানের যত পণ্য আছে, সব পণ্যের দাম কমবে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে। তিনি বলেন, রমজানে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। তবে বাজারে সরকারের চেষ্টার প্রভাব দেখা যায়নি।

মিরপুরের বেসরকারি চাকরিজীবী নজিবুর রহমান শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই-তিনটি সুপারশপ ঘুরেও সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি।

তেজতুরি বাজারের রমিজা বেগম বলেন, বোতলের সয়াবিন তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে দুই লিটার খোলা তেল কিনেছি, তাও আবার বেশি দামে। বংশালের আছিয়া খাতুন বলেন, কয়েক দোকান ঘুরে কোনো দোকানে তেল পেলেও বোতলের গায়ের মূল্য ১৭৫ টাকার স্থলে নেওয়া হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা।

সবজি ও মুরগির দামও বেড়ে গেছে। বেগুনের দাম দ্বিগুণেরও বেশি এবং শসার দাম ৭০-৮০ টাকা কেজি। কারওয়ান বাজারে জিনিসপত্রের দাম অনেকটা সস্তা। সেখানেও সবজির দাম বেড়ে গেছে। সবজি বিক্রেতা আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রতি আইটেমে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে।

এবার এনবিআর খেজুর আমদানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ এবং বিদ্যমান ৫ শতাংশ আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে অর্থাৎ মোট করহার ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৮ দশমিক ৭০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এনবিআরের এমন সিদ্ধান্তের ফলেই খুচরা বাজারে কমেছে খেজুরের দাম।

কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানি সবুজ মিয়া বলেন, রমজান উপলক্ষে কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও দাম নাগালের মধ্যে থাকায় ক্রেতাদের কেনাকাটার চাহিদা আছে, যা বিক্রেতাদের জন্য ভালো। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ থেকে ২০ টাকা দাম বেড়ে লেবুর হালি ৪০-৫০ টাকা, শসা ২০ টাকা বেড়ে ৭০-৮০ টাকা এবং ৩০ টাকার বেগুন এখন ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানের শুরুতে শসার দাম আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া। তবে ছোলার দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে বর্তমানে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, প্রতিবছর মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে রোজা শুরুর আগেই বাজারে উত্তাপ বাড়তে থাকে। বাড়তে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও। এবারকার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় শসা, লেবু ও বেগুনের দাম কিছুটা বাড়লেও আগের মতো অস্বাভাবিক বাড়েনি। খেজুরের দাম আগের তুলনায় কমেছে। শুক্রবার মানভেদে প্রতি কেজি বস্তার খোলা খেজুর ১৮০-২০০ টাকা, মেডজুল খেজুর ১২০০-১৬০০ টাকা, আজোয়া খেজুর ৯০০-১৩০০ টাকা, কামরাঙা মরিয়ম খেজুর ৭০০-১৮৫০ টাকা, মরিয়ম খেজুর ৬০০ টাকা, তিউনিসিয়ার খেজুর ৪৫০ টাকা, কাঁচা খেজুর ৬০০ টাকা, মাশারুক ৭০০-৯০০ টাকা, দাবাস খেজুর ৪৬০- ৫০০ টাকা, জাহিদি ২০০-৩০০ টাকা এবং বরই খেজুর ৪৫০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

গুলিস্তানের খেজুর বিক্রেতা আলতাব হোসেন বলেন, খেজুরের দাম এ বছর অনেক কম। যে খেজুর গত বছর হাজার টাকা বিক্রি করেছি, সেটা এবার ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করছি।

ক্রেতা নাফিছা আক্তার বলেন, আগের বছর সবচেয়ে কম দামের খেজুর কিনতে হয়েছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। এবার ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়ও কিনতে পারছি।

রমজানে ফলের দাম ভোক্তাপর্যায়ে সহনীয় রাখতে আপেল, কমলা, আঙুর, বেদানা, নাশপাতিসহ তাজা ফলে আরোপিত শুল্ক-কর কমানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। তবে এর প্রভাব এখনো বাজারে পড়েনি।

সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, এসব ফল কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দাম চাইছেন বিক্রেতারা। সাইফুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, সাত দিন আগে মাঝারি আকারের কমলা কিনেছি প্রতি কেজি ২৬০ টাকা করে, যা এখন ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা। ২৮০ টাকা কেজির আপেলের দামও বেড়ে হয়েছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা।

খুচরা ফল বিক্রেতারা জানিয়েছেন, প্রতি কেজি আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়, কমলা ২৮০-৩০০ টাকা, চায়না কমলা ৩২০ টাকা, মাল্টা ২৮০-৩০০ টাকা। সপ্তাহখানেক আগে মাল্টা ২৫০-২৬০ টাকা, সবুজ আঙুর ৩৫০ টাকা, লাল আঙুর ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বেলের দাম বেড়ে এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস। সেই সঙ্গে তরমুজ ও কলার দামেও উত্তাপ ছড়িয়েছে আগের থেকে। ডজনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে বর্তমানে মাঝারি আকারের সবরি কলা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, তরমুজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানে তরমুজ, কলা ও বেলের দাম আরো বাড়তে পারে।

দেশি পেঁয়াজের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা বেড়ে বর্তমানে মানভেদে ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুন ২৩০ টাকা এবং আদা ১০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ-মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী। তেলাপিয়া ২০০ টাকা, পাঙাশ ২২০ টাকা, রুই আকারভেদে ২৮০ থেকে ৫০০ টাকা, কাতলা আকারভেদে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, বোয়াল আকারভেদে ৫৫০ থেকে এক হাজার টাকা, বেলে ৫৫০ টাকা, বড় শোল মাছ ৭৫০ টাকা, মাগুর ৭০০ টাকা, বাটা ৫৫০ টাকা ও দেশি ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশি মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও অন্যান্য জাতের দাম কিছুটা বেড়েছে। কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে পাকিস্তানি মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, লেয়ার ২৫০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved by BUD News 24-2025
Developed BY www.budnews24.com