তাজা ফল আমদানির ওপর রাজস্ব বোর্ড আরোপিত উচ্চ শুল্কহার প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার বাদামতলী ফলপট্টিতে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুস ও সদস্য নাজিম উদ্দীন।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, উচ্চ শুল্কহারের কারণে গত কয়েক বছর যাবৎ তাজা ফল আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। তাজা ফল আমদানি করলে ৬ ধরনের শুল্ক দিতে হয়। শুল্কহার এত বেশি যে, ৮৬ টাকায় কোনো ফল কিনলে সব মিলিয়ে সেটার শুল্ককর হয় ১২০ টাকা। এরপর সেটা খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করতে গেলে দাম আরো বেড়ে যায়। ভোক্তা পর্যায়ে দাম সহনীয় রাখতে আমদনি শুল্ক ১২০ টাকা থেকে কমিয়ে ৮৭ টাকা করার দাবি জানান তিনি।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানের (সচিব) সভাপতিত্বে অংশীজন নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই ও বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় বর্তমান শুল্ককর হার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২১-২২ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তাজা ফল আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যেখানে আপেল আমদানির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৫১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। একইভাবে মাল্টা ৭০ দশমিক ৫২ শতাংশ ও আঙ্গুর ২৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ আমদানি কমেছে। উচ্চ শুল্কের কারণে তাজা ফলের আমদানি হ্রাস পাওয়ায় একদিকে ভোক্তার স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে, অপরদিকে রাজস্ব আরোহণও কমে গেছে।
আমদানি করা তাজা ফলের উচ্চ শুল্কহার সমন্বয় করতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপ-প্রধান মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়েছে। এতে ট্যারিফ কমিশন কর্তৃক শুল্ক (আরডি) ২০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। যার প্রভাব পড়বে আসন্ন রমজান মাসে। এ অবস্থায় তাজা ফলের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্কহার অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।