বেসরকারি খাতের আইএফআইসি ব্যাংকের লন্ডনের লোকসানি এক্সচেঞ্জ হাউজ দেখতে যাচ্ছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড। ৮ দিনের ভ্রমণে খরচ হবে অর্ধকোটি টাকার বেশি। তাদের ভ্রমণের বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয় আইএফআইসি ব্যাংকে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার মধ্যে ব্যাখ্যার জবাব দেওয়া জন্য বলা হয় ওই চিঠিতে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনাদের ব্যাংকের কতজন সদস্য, কোন প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে, কি কারণে যুক্তরাজ্য লোকসানি সাবসিডিয়ারী ‘আইএফআইসি মানি টান্সফার (ইউকে) লিমিটেড’ দেখতে যাচ্ছেন। তার সাপোটিং তথ্যসহ বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে বলা হয়।
জানতে চাইলে আইএফআইসি ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও মুখপাত্র মো. রফিকুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, এমন একটি চিঠি এসেছে শুনেছি। ব্যাখ্যা তলবের জবাব দেওয়া হয়েছে কি-না তা জেনে জানাতে হবে।
জানা গেছে, চলতি মাসে এক্সচেঞ্জ হাউসটি দেখতে বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণ করবেন আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. মেহমুদ হোসেন, পরিচালক মো. এবতাদুল ইসলাম, কাজী মো. মাহবুব কাশেম, মো. গোলাম মোস্তফা ও মো. মনজুরুল হক। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যানসহ প্রথম তিনজনই ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার নন। আর বাকি দুই পরিচালক সরকারের প্রতিনিধি। গত ৮ জানুয়ারি আইএফআইসি ব্যাংকের ৯০৬তম বোর্ড সভায় লন্ডন এক্সচেঞ্জ হাউজ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। লন্ডন বিলাসে প্রত্যেকের জন্য বিমান ভাড়ায় ব্যয় হচ্ছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ পরিচালনা পর্ষদের ছয়জনের জন্য বিমান ভাড়াতে ব্যাংকের ব্যয় হবে ২২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া কোম্পানি সচিব মোকাম্মেল হকের বিমান ভাড়াও ব্যাংক বহন করবে।
ব্যাংক সূত্রে আরও জানা গেছে, যাওয়া-আসা ও লন্ডনে ছয়দিন অবস্থানসহ মোট আট দিনের জন্য টিএ/ডিএ ভাতা নিচ্ছেন চেয়ারম্যান ও ৫ পরিচালক। চেয়ারম্যান প্রতিদিনের জন্য টিএ/ডিএ ভাতা নেবেন এক হাজার ১০০ ডলার করে। অর্থাৎ আট দিনে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মেহমুদ হোসেন টিএ/ডিএ বিল নিবেন ৮ হাজার ৮০০ ডলার। আর প্রত্যেক পরিচালক প্রতিদিনের জন্য ৮৫০ ডলার করে টিএ/ডিএ ভাতা নেবেন। এতে প্রত্যেক পরিচালক টিএ/ডিএ বিল নেবেন ছয় হাজার ৮০০ ডলার করে।
চেয়ারম্যান ও চার পরিচালক মিলে মোট টিএ/ডিএ বিল নেবেন ৩৬ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২২ টাকা দরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এতে বিমান ভাড়া ও টিএ/ডিএ বিল মিলিয়েই ব্যয় হচ্ছে ৬৬ লাখ ২২ হাজার টাকা। এছাড়া কোম্পানি সচিবও ব্যাংকের নির্ধারিত হারে আট দিনের জন্য টিএ/ডিএ বিল নেবেন।
যদিও ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এক্সচেঞ্জ হাউসটির জন্য নিয়মিতই লোকসান গুনতে হচ্ছে আইএফআইসি ব্যাংককে। গত বছর শেষ ৯ মাসে (এপ্রিল-ডিসেম্বর) আইএফআইসি মানি ট্রান্সফার (ইউকে) লিমিটেড ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৯৬ পাউন্ড লোকসান করেছে। বাংলাদেশি টাকায় প্রতি পাউন্ড ১৫১ টাকা দরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৬৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা।