বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের কঠোর সমালোচনা করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। একই সাথে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভুমিকারও সমালোচনা করে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা।
অস্বাস্থ্যকর, অনিরাপদ এবং ফুডগ্রেডবিহীন ড্রামে ভোজ্য তেল ব্যবহারের প্রতিবাদে সোমবার বেলা ১১টায় কারওয়ান বাজারে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে ক্যাব।
বাণিজ্য উপদেষ্টার সমালোচনা করে ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে খোলা ড্রামের অনিরাপদ ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধ এবং সংকট কাটিয়ে বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে বাণিজ্য উপদেষ্টার থেকে পদত্যাগ করে চলে যান।
বাণিজ্য উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আপনি সাধারণ মানুষের নয় বরং ব্যবসায়িক কারসাজি চক্রের সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষা চলেছেন। তাই আপনাকে আর জনগণের সেবা করতে হবে না, অবিলম্বে পদত্যাগ করে চলে যান। সম্প্রতি বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘মাসখানেক হলো বাজার থেকে খোলা সয়াবিন তেল কিনে খাচ্ছেন এবং খোলা ও বোতলজাত সয়াবিনের মান একই। এতেই ক্ষেপেছেন ক্যাব নেতারা।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভুমিকারও সমালোচনা করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে খোলা ড্রামের অনিরাপদ ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধ হলে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন ক্যাবের এই নেতা।
মানববন্ধনে ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম সচিব ও ক্যাব কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য মোহা. শওকত আলী খান, ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন, ক্যাব নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার মীর রেজাউল করিম, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আদিনা খান ও বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহবায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ।
বক্তারা আরও বলেন, মাহে রমজানকে ঘিরে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় হলেও সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। এর ফলে দেশের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। জনগণের প্রত্যাশা ছিল জুলাই বিপ্লবের পর আর কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না, নিত্যপণ্যের দাম কমে আসবে। কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশা একবারে গুড়েবালি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আইন অনুযায়ী সব ভোজ্যতেলে নির্ধারিত মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ বাধ্যতামূলক। খোলা তেলে এসবের কোনো বালাই নেই, বরং তা খুবই অস্বাস্থ্য কর।
তারা আরও জানান, খোলা ড্রামের অনিরাপদ ভোজ্যতেল ব্যবহারের কারণে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের রোগব্যাধি বিশেষত অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ায় প্রবণতা বাড়ছে। সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং সুরক্ষার দায়িত্বে রাষ্ট্রের। নিরাপদ এবং গুণগত মানসম্পন্ন খাবার নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং এটি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-এসডিজির সবার জন্য সুস্বাস্থ্য সংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনের সাথেও সম্পৃক্ত।
বাণিজ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে ভোজ্যতেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীরা আইন ভঙ্গ করে খোলা ড্রামে অনিরাপদ ভোজ্যতেল বিক্রি করতে উৎসাহিত হবেন যা আইন বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে ক্যাব মনে করে। তাই ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবিলম্বে নন-ফুড গ্রেড ড্রামে ভোজ্যতেল বাজারজাত বন্ধ করে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে বাস্তবায়নে সরকারের কাছে ক্যাব জোর দাবি জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই ২০২১ থেকে অনিরাপদ, অস্বাস্থ্যকর ও ফুডগ্রেডহীন ড্রামে ভোজ্যতেল বাজারজাতকরণ বন্ধ করা হলেও কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতির ঘাটতির দরুন তা কার্যকর করা হয়নি। পরবর্তীতে খোলা সয়াবিন তেল বাজারজাতকরণের সময়সীমা ৩১ জুলাই ২০২২ এবং খোলা পাম অয়েল বাজারজাতকরণের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত সরকার বৃদ্ধি করে। ওই সময়ের পর শতভাগ ভোজ্যতেল ফুডগ্রেড বোতল, প্লাষ্টিক ফয়েল বা পাউচপ্যাকে বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আইন অনুযায়ী অনিরাপদ প্যাকেজিং অর্থাৎ ফুড গ্রেড নয় এমন উপকরণে তৈরি প্যাকেজিং-এ ভোজ্যতেল বাজারজাতকরণ দন্ডনীয় অপরাধ।