জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে যে রাজনৈতিক দল গঠন হওয়ার কথা, তার ঘোষণা আসছে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি। এর আগেই সরকার থেকে পদত্যাগ করে নতুন দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব নিচ্ছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। এ দলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব নিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র সমন্বয়কদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে মধ্য ফেব্রুয়ারিতে এই দলটির ঘোষণা আসার কথা ছিল। কিন্তু দলের দুই প্রধানের ব্যাপারে কারো কোনো আপত্তি না থাকলেও অন্য পদগুলোতে কারা থাকবেনÑ তা নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছুতে পারেননি ছাত্ররা। তবে এরই মধ্যে এসব পদ নিয়ে মোটামুটি মতৈক্য তৈরি হওয়ায় আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেওয়ার ব্যাপারে একমত হন জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
পদপদবি নিয়ে ঐকমত্য হওয়ার পরই সরকার থেকে পদত্যাগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। গতকাল শনিবার এক বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন।
তিনি বলেন, ‘সরকারের (থাকার) চেয়ে জনগণের সঙ্গে কাজ করা, মাঠে যাওয়া যদি বেশি জরুরি বলে মনে হয়, তাহলে আমি সরকার ছেড়ে দেব এবং হয়তো সেই দলের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হব।’
নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণার ব্যাপারে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘যেহেতু দলের ঘোষণা এসেছে দলটি এ মাসেই হবে, কদিনের মধ্যেই সবাই এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাবে।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা তো এখন রাজনৈতিক দলের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে। তো আমার মনে হয় না তাদের আর সরকারে আসার কোনো প্রয়োজন আছে এ মুহূর্তে, বরং জনগণের কাছেই এখন তাদের বেশি প্রয়োজন।’
সরকার থেকে তিনি সরে দাঁড়ালে তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেনÑ এর ব্যাখ্যায় তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘নতুন কেউ কিংবা বিদ্যমান উপদেষ্টাদের মধ্য থেকে কে দায়িত্বে আসবেÑ কেবিনেটে (মন্ত্রিপরিষদে) এ বিষয়ে আলোচনা হবে।’
রাজনৈতিক দল গঠন ও ভোটের রাজনীতি যে দুটি ভিন্ন বিষয়, তা জেনেই মাঠে নামা হচ্ছে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে গোছানো এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর এটা নির্ভর করবে জনগণের সমর্থন তারা কতটুকু ভোটে রূপান্তর করতে পারছেন। জনগণের তো তরুণদের প্রতি একটা সমর্থন আছেই, সহানুভূতিও আছে; যেহেতু তারা গণঅভ্যুত্থান করেছে।’