চলতি বছরের মধ্যে যা দ্বিগুণ তথা ছয় বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। বুধবার সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে তিন দিনব্যাপী ১৬তম এশিয়া ফার্মা এক্সপো’র উদ্বোধনী দিনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
দেশের ওষুধ শিল্পে গত ২৩ বছরের নানা আবিষ্কার এবং অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে রপ্তানিসহ এ খাতের বাজার ৩ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের মধ্যে যা দ্বিগুণ তথা ছয় বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে ১৫০টিরও বেশি দেশে বার্ষিক ওষুধ রপ্তানি ৪৫০ মিলিয়ন ডলারেরও অধিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছে তারা।
এবারের আয়োজক বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো। এবারের আয়োজনে ৩২টি দেশের ৮শ কোম্পানি অংশ নিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার, জাতীয় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক বেবী রানী কর্মকার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন সমিতির মহাসচিব এসএম শফিউজ্জামান।
এবারের আয়োজনে আমেরিকা, চীন, ইংল্যান্ড, জার্মানি, মালয়েশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, ইতালি, জাপান, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, আয়ারল্যান্ড, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর মোট ৩২টি দেশের ৮শ কোম্পানি অংশ নিয়েছ। এই আয়োজনে রয়েছে ফার্মা প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, বায়োটেক ল্যাব ইকুইপমেন্ট, এপিআই ম্যানুফেকচারিং প্লান্টস এবং মেশিনারিজ, ফার্মা ফর্মুলেশন্স এবং কন্ট্রাক্ট ম্যানুফেকচারিং। এতে করে দেশী-বিদেশি উদ্যোক্তারা ওষুধ শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রাপাতি ও যন্ত্রাংশ এবং কাঁচামাল সম্পর্কে বিশদ জানতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ ওষুধ আমদানী করে। কিন্তু আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। আমরা সেই সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারলে রপ্তানি আরও বাড়াবে। এতে দেশও উপকৃত হবে।
তিনদিনব্যাপী এক্সপো আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক্সপো খোলা থাকবে। উল্লেখ্য, এখন বাংলাদেশে বিশ্বমানের ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে এবং দেশের মোট অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯৮ ভাগ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। একই সাথে বর্তমানে বিশ্বের ১৫৭টি দেশে বাংলাদেশের উৎপাদিত মানসম্মত ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে।