২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে যাওয়ার পথে লিওনেল মেসির দেওয়া অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্যের ভিডিও, শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জন্য সুখকর পরিণতি বয়ে আনেনি, বরং ব্যাপক শোরগোল তুলেছে। নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মধ্যে অনেকেই মেসির ‘সবকিছু ভুলে যাও’ কথাটির ভেতরে গোপন ইঙ্গিত খুঁজতে চেষ্টা করেছেন। তবে পুরো ভিডিও প্রকাশের পর সেটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যাখ্যা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ভিডিওর শুরুতে অধিনায়ক মেসি সতীর্থদের উদ্দেশে বলেন, ‘চলো ছেলেরা, শান্ত হও। সবাই শান্ত হও। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শান্ত থাকা। শান্ত থাকো। শুধু খেলায় মন দাও, ঠিক আছে? সবকিছু ভুলে যাও। সবকিছু ভুলে যাও। শুধু খেলো। সবাই শুধু খেলায় মনোযোগ দাও। চলো।’
এরপর মাঠে হাঁটতে হাঁটতে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ পাশে থাকা ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে বলেন, ‘ওদের ওদিকে দুইজন, একজনের বিপক্ষে। তুমি যদি পজেশন ছেড়ে যাও… লামিন (ইয়ামাল) আর আমি চাপ দেব। ভেতরের থ্রু বলটার দিকে খেয়াল রেখো, যেন ও ঘুরে দাঁড়াতে না পারে।’
এরপর লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গোলরক্ষক মার্টিনেজকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দিবু (ডাকনাম), ওরা যখন ভেতরের দিকে কাট করবে তখন আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ওরা সব সময় পা খুলে শট বা পাস দেওয়ার চেষ্টা করে, তাই না?’
পরে লিসান্দ্রো পাশে থাকা নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে ফিসফিস করে বলেন, ‘চলো নিকো, তুমি ওকে পুরো ম্যাচে আটকে রাখবে। পুরো ম্যাচেই ওকে পকেটে রাখবে।’ এরপর তিনি আবার মার্টিনেজকে বলেন, ‘দিবু, শক্ত থেকো। এটা মাথায় রাখো। প্রতিটি বল নিজের করে নাও, ঠিক আছে?’
এ সময় সামনে এগিয়ে থাকা মেসি ঘুরে সেন্টার-ব্যাকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ওরা যখন সামনে উঠবে, তখন লিয়ান্দ্রো (পারেদেস) আর এনজোকে (ফার্নান্দেজ) বলো যেন বেশি সামনে না যায়।’
সবশেষে রোমেরো আবার মার্টিনেজকে বলেন, ‘আজ তোমার দিন, ঠিক আছে?’
এর জবাবে অ্যাস্টন ভিলার এই গোলরক্ষক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আজ আমার দিন। আজকের দিনটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।’
এরপর দুই দলের খেলোয়াড়রা দীর্ঘ সারি ধরে মাঠে এগিয়ে যান এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কিন্তু এরপরই শুরু হয় লড়াই। ম্যাচ চলাকালীন এবং শেষ বাঁশি বাজার পর উভয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে তিক্ত পরাজয়ের স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়।