স্থানীয় সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ স্তর—সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন চলতি বছর হচ্ছে না। তবে চলতি বছরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু হতে পারে। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকার তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের জন্য ইউপি নির্বাচনকে একটি ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে দেখছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এটি বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক পরীক্ষা হতে পারে।
যদিও স্থানীয় সরকারের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে, তবুও এখন পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কেবল রুটিন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে এখনো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় নিয়ে সরকার আপাতত সিটি, পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচন পিছিয়ে রাখছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে, আর জামায়াত ও ১১-দলীয় জোটও সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।
সূত্র বলছে, প্রথম ধাপে সরকার-সমর্থিত শক্ত অবস্থানের কিছু ইউনিয়নে ভোট আয়োজন করা হতে পারে। ফলাফল অনুকূলে থাকলে দ্রুত দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে, আর প্রত্যাশিত ফল না এলে পরবর্তী ধাপ ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নির্দলীয় কাঠামোয় পরিচালনার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ করছে। আগামী ১৫ জুন খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে জনমত নেওয়া হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৩৩০টি পৌরসভা রয়েছে। অধিকাংশই বর্তমানে প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটি বিশেষ নির্বাচনি ক্যালেন্ডারভিত্তিক সফটওয়্যার প্রস্তুত করেছে এবং প্রাথমিক কারিগরি কাজও শুরু করেছে। প্রয়োজনীয় বাজেট ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।