দেশজুড়ে পেট্রোলপাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না জ্বালানি তেল। অথচ ডিপোগুলোতে অকটেন-পেট্রোল মজুত উপচে পড়ার তথ্য উঠে আসায় জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভ।
সরকারি সূত্র জানায়, ডিপোতে জায়গা সংকটের কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) হঠাৎ করেই দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে জ্বালানি তেল নেওয়া বন্ধ করেছে। এতে বিপাকে পড়েছে স্থানীয় শিল্প এবং আরও জটিল হয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় ধরনের ব্যর্থতা। ইজাজ হোসেন বলেন, দেশে উৎপাদন থাকার পরও যদি মানুষকে ৭-১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়, তাহলে স্পষ্টই বোঝা যায় ব্যবস্থাপনায় গুরুতর সমস্যা রয়েছে।
জানা গেছে, দেশে প্রতি মাসে পেট্রোল-অকটেনের চাহিদা প্রায় ৭৫ হাজার টন, যার ৭৫ শতাংশই পূরণ করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে বড় অংশ সরবরাহ করে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি। কিন্তু বিপিসির সিদ্ধান্তে এই প্রতিষ্ঠানটির ট্যাংকগুলো এখন উপচে পড়ছে, এমনকি উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকিতেও পড়েছে।
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, বর্তমানে দেশে অকটেন মজুত ক্ষমতা ৫৩ হাজার টন হলেও মজুত আছে প্রায় ৫৫ হাজার টন। নতুন করে জাহাজে তেল আসায় সংকট আরও বেড়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে—যদি মজুত এত বেশি হয়, তাহলে পাম্পে তেলের সংকট কেন?
এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয় উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সরকারি মহল মনে করছে, রেশনিং, আতঙ্কে অতিরিক্ত চাহিদা এবং মজুতদারির প্রবণতাও দীর্ঘ লাইনের কারণ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল সমস্যা পরিকল্পনার ঘাটতি ও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা।
অন্যদিকে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে ডিজেল সরবরাহে। যুদ্ধ পরিস্থিতি কমে আসায় আমদানি বাড়ছে এবং শিগগিরই বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।
সূত্র: যুগান্তর