মালদ্বীপের ধিগুরাহ দ্বীপ-এ প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য নির্মিত একটি আবাসিক ব্লকে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোরে আগুন লাগার পর দগ্ধ আটজনকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে তাদের মধ্যে পাঁচজন মারা যান বলে জানিয়েছে মালদ্বীপ পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
নিহতরা হলেন— তাজ উদ্দিন ইসলাম, সদর আলী, রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও নূরনবী সরকার। এছাড়া জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন নামের আরও দুজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মালদ্বীপ পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ২টার দিকে ধিগুরাহ দ্বীপের একটি প্রবাসী শ্রমিক আবাসনে আগুন লাগার খবর পায় তারা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ শ্রমিক মারা যান।
আগুনে শরীরের অধিকাংশ অংশ দগ্ধ হওয়ায় গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী মালে-তে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা আইজিএম হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মালে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব মো. সোহেল পারভেজ গণমাধ্যমকে বলেন, এ মর্মান্তিক ঘটনায় তারা গভীরভাবে শোকাহত। হাইকমিশন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।
ধিগুরাহ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম উসমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আবাসন ব্লকের রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার লিক হওয়ার কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর এলাকা জনসাধারণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন তাজ উদ্দিন ইসলাম (২৫)। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের আলাদাদপুর গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার বোনের একমাত্র ভাই তাজ উদ্দিন প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করে আট মাস আগে জীবিকার সন্ধানে মালদ্বীপে যান। সেখানে একটি রিসোর্টে কাজ করতেন। তার চার মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যাওয়া প্রবাসীদের এভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং মরদেহগুলো সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।