Deprecated: Required parameter $parent follows optional parameter $field in /home/budckldq/budnews24.com/wp-content/themes/CreativeNews/lib/ReduxCore/inc/fields/select/field_select.php on line 17

Deprecated: Required parameter $parent follows optional parameter $field in /home/budckldq/budnews24.com/wp-content/themes/CreativeNews/lib/ReduxCore/inc/fields/sorter/field_sorter.php on line 17

Deprecated: Required parameter $parent follows optional parameter $field in /home/budckldq/budnews24.com/wp-content/themes/CreativeNews/lib/ReduxCore/inc/fields/color/field_color.php on line 45

Deprecated: Required parameter $parent follows optional parameter $field in /home/budckldq/budnews24.com/wp-content/themes/CreativeNews/lib/ReduxCore/inc/fields/typography/field_typography.php on line 50

Deprecated: Required parameter $parent follows optional parameter $field in /home/budckldq/budnews24.com/wp-content/themes/CreativeNews/lib/ReduxCore/inc/extensions/options_object/options_object/field_options_object.php on line 42
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ন

নির্বাচনের আগে দিল্লিতে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র! নেপথ্যে কারা?

  • সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ৯.০৭ এএম
  • ১৮১ জন

জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট হাসিনার উৎখাত এবং পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে থেমে নেই ভারতের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা। আসন্ন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তিন সপ্তাহও বাকি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে দিল্লি।

বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি মৌলবাদ তকমা দিয়ে চাপে ফেলতে চাইছেন দিল্লির নীতিনির্ধারকরা। শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগকে মাঠে নামানোর পাশাপাশি দিল্লিভিত্তিক বিভিন্ন ‘থিংক ট্যাংক’ মাঠে নেমেছে বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতায়।

গত কয়েক দিনে দিল্লিতে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের সংবাদ সম্মেলন, বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের দিল্লিতে ফিরিয়ে নেওয়া, বাংলাদেশে ইসলামি মৌলবাদের কল্পিত উত্থান নিয়ে দিল্লিতে সেমিনারের আয়োজন এবং সর্বোপরি আগামীকাল (শুক্রবার) দিল্লিতে কর্মরত ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের সঙ্গে শেখ হাসিনার মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজনসহ নানা ধরনের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা শুরু হয়েছে।

ঢাকা ও দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ নিয়ে দিল্লিতে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশবিরোধী এ তৎপরতা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মোদি সরকারের নীতিনির্ধারকরা। বিএনপির ওপর পুরোপুরি আস্থা না রাখার পাশাপাশি ইসলামি দলগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে রীতিমতো উদ্বিগ্ন দিল্লি।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দিল্লি সর্বাত্মক বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতায় নেমেছে। এখন মোদি সরকারের প্রধান টার্গেট বাংলাদেশকে মৌলবাদী ট্যাগ দিয়ে চাপে ফেলার পাশাপাশি দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা।

বিশ্লেষকরা আরো বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে আমরা একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছি। এ সময় দিল্লির বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা বৃদ্ধি গভীর উদ্বেগের বিষয়। গত ১৭ জানুয়ারি দিল্লি প্রেস ক্লাবে ভারতের ডিপস্টেট তথা গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা ও সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। ওই সংবাদ সম্মেলনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বাংলাদেশ সরকারকে হুমকি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। কোনোভাবেই দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না।

তারা আরো বলেন, আমরা শিগগির শেখ হাসিনাকে নিয়ে দেশে ফিরব এবং ক্ষমতায় যাব।

ওই সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লির কাছে আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করছে মোদি সরকার। ওই সংবাদ সম্মেলনের মাত্র দুদিন পর গত ২০ জানুয়ারি (বুধবার) দিল্লিতে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ‘সিডস অব হেট : বাংলাদেশ’স এক্সিমিস্ট সার্জ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ অ্যান্ড আদার র‌্যাডিক্যাল অর্গানাইজেশনস’ শীর্ষক বইয়ের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও ভারতীয় সাংবাদিক দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীর যৌথভাবে সম্পাদিত এ বইয়ের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠানে বিজেপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী এমজে আকবর, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পংকজ সরণ, ড. অনির্বাণ গাঙ্গুলী, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, শ্রুতি পাট্টানায়েক প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন। আলোচকরা বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের মৌলবাদী আখ্যা দিয়ে তাদের উত্থানকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাদের দাবিÑকথিত এ মৌলবাদী শক্তির উত্থানের ফলে বাংলাদেশের রাজনীতির চিত্র পাল্টে যাচ্ছে, যা দেশটির জন্য অস্তিত্ব সংকট তৈরি করবে।

পঙ্কজ সরণ তার বক্তৃতায় বলেন, বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে। এখন বড় প্রশ্ন হলোÑবাংলাদেশ তার অতীত থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে শুরু করতে পারবে কি না।

এমজে আকবর বাংলাদেশ সম্পর্কে তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ এখন অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটিতে এখন যারা সরকারে আছে, তাদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক নয়। এ পরিবর্তন যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে হতো, তাহলে আজ এই বইয়ের প্রকাশনা বা এটা নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন পড়ত না।

অন্য বক্তারা বাংলাদেশে কথিত মৌলবাদের উত্থানকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলোর পাশাপাশি ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনাকে ক্যামেরার সামনে দেখা যেতে পারে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পালিয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে হাসিনা এখনো ক্যামেরার মুখোমুখি হননি। দিল্লির অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে ‘ফরেন করেসপনডেন্স ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাব’।

দিল্লির একটি নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে জানিয়েছে, আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করার কথা রয়েছে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পঙ্কজ সরণের। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার। আমন্ত্রণপত্রে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটির ব্যাপারে ঢাকার পক্ষ থেকে আপত্তি জানানোর পরও তা আমলে নেয়নি দিল্লি।

কয়েক মাস আগে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দিল্লি প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ওই সময় এ ব্যাপারে ঢাকার পক্ষ থেকে আপত্তি জানানোর পর সংবাদ সম্মেলনটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়।

আগামীকাল অনুষ্ঠেয় শেখ হাসিনার সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানটি রীতিমতো উসকানিমূলক বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে বারবার দাবি জানালেও বিষয়টি প্রতিবারই এড়িয়ে গেছে দিল্লি। এ পরিস্থিতিতে দিল্লিতে শেখ হাসিনার কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে হাসিনার পাশে থাকা এবং ঢাকার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেওয়ারই বার্তা দেয়।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ দিল্লির এ ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে আমার দেশ-এর সঙ্গে আলাপে বলেন, সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লিতে এমন একটি সময়ে বাংলাদেশবিরোধী বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা চোখে পড়ছে, যখন বাংলাদেশ আগামী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অগ্রসর হচ্ছে। ভারত যা করছে তা অপ্রত্যাশিত নয়, তারা বাংলাদেশ নিয়ে এ ধরনের অপতৎপরতা চালিয়েই আসছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। দিল্লি বাংলাদেশে কর্মরত তার কূটনীতিকদের পরিবার-পরিজনকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। এটা বড় ধরনের একটি বার্তা দেয়। ভারত আসলে বাংলাদেশ নিয়ে বড় ধরনের কোনো ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে। সরকার, রাজনৈতিক দল এবং সর্বোপরি দেশের সাধারণ মানুষকে দিল্লির তৎপরতার বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। কোনো ধরনের উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে ইউনূস সরকারকে আরো বেশি চাপে ফেলতে চাচ্ছে দিল্লি। মোদি সরকার কোনোভাবেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ইউনূস সরকারকে মেনে নেয়নি। নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন জরিপে জামায়াত নেতৃত্বের ইসলামি দলগুলোর জোটের ভালো ফল করার আভাস মিলছে। বিষয়টিকে সামনে এনে ভারতের নীতিনির্ধারকরা বাংলাদেশকে মৌলবাদী ট্যাগ দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে চাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য- বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের এ তৎপরতার বিরুদ্ধে তেমন কেউ কিছু বলছেন না। একটি মৌলবাদী শক্তি এখন ভারত শাসন করছে। অথচ তারাই আবার কল্পিত মৌলবাদের ইস্যু সামনে এনে বাংলাদেশের দিকে আঙুল তুলছে।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2025 © All rights reserved by BUD News 24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com