শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন

২১ বছরের মধ্যে অস্বাভাবিক আবহাওয়া

  • সময়: রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ৯.১৭ এএম
  • ৩৭ জন

তাপমাত্রা কমে রাজধানীতে শীতের প্রকোপ আরো বেড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় সূর্যের আলো বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। ফলে দিনরাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীত অনুভূত হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, গত ২১ বছরের ইতিহাসে এবারের মতো দিন ও রাতের তাপমাত্রার এত পার্থক্য আর কখনো দেখা যায়নি। ঘন কুয়াশার কারণেই এমনটি ঘটছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল শনিবার রাতে আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা আমার দেশকে বলেন, এবার ঘন কুয়াশার পরিস্থিতি অস্বাভাবিক লক্ষ করা যাচ্ছে। চলতি বছর আমরা দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেয়েছি। এর আগে ২০০৪ সালে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। গত ২১ বছরের ইতিহাসে এবারের মতো দিনরাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কখনোই এতটা নেমে আসেনি। এ কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণেই এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

কাজী জেবুন নেসা আরো বলেন, চলতি মাসজুড়েই শীতের দাপট থাকবে। কোনো কোনো সময় শীতের তীব্রতা আরো বাড়তে পারে। এ মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি আকারের এবং এক থেকে দুটি তীব্র আকারের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে । এতে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি নাগাদ নেমে আসতে পারে।

গতকাল সকালে আগের দিনের মতোই রাজধানীর আকাশ কুয়াশায় ঢাকা ছিল। তবে শনিবার রাজধানীর তাপমাত্রা আগের দিনের চেয়ে কমে শীতের প্রকোপ আরো বেড়ে যায়। এদিন রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সবচেয়ে কম। আগের দিন শুক্রবার এ তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্যদিকে শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশের তিন জেলা নওগাঁ, পাবনা ও রাজশাহীতে ছিল। আগের দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে হিসাবে শনিবার সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বাড়লেও কমেছে রাজধানীর তাপমাত্রা। গত দুদিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে দেশের তাপমাত্রা বাড়লেও রাজধানীতে কমেছে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা বলেন, শীত ও তাপমাত্রা আগামী সাতদিন এমনই থাকতে পারে। বৃষ্টি না হলে রাজধানীসহ দেশের পূর্ব বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুয়াশা কাটার সম্ভাবনা কম। এখন যে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, তা আরো কয়েক দিন থাকতে পারে। রাজধানীতে রোদের দেখা মিললেও বেশিক্ষণ স্থায়ী নাও হতে পারে। এতে শীতের অনুভুতি আরো বাড়তে পারে।

গতকাল খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর অঞ্চলে কুয়াশা তুলনামূলক কম ছিল। অর্থাৎ যেদিক থেকে ঘন কুয়াশা শুরু হয়েছে, সেদিক থেকেই ধীরে ধীরে কমেছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। শনিবার রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার উপর দিয়ে মুদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সারা দেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2025 © All rights reserved by BUD News 24
Developed BY www.budnews24.com