কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও মাদক পাচারসহ সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করেছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে একজন আসামিসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল আটক করা হয়। অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদক ও অবৈধ পণ্যের মূল্য প্রায় ১১ লক্ষ ১ হাজার ৫১০ টাকা।
বিজিবি সূত্র জানায়, ১৪ ডিসেম্বর ভোর আনুমানিক ৬টা ৩৫ মিনিটে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ তেতুলবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল চলাকালে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খাসমহল মাঠ এলাকা থেকে ৬ কেজি ভারতীয় গাঁজাসহ এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম শান্ত ইসলাম, পিতা জাহিদুল ইসলাম, গ্রাম তেতুলবাড়ি, গাংনী থানায়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ৪১০ টাকা উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ২১ হাজার ৪১০ টাকা।
একই দিন দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বিজিবির বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। ব্যাটালিয়ন সদরের বিশেষ টহল দল সহকারী পরিচালক মোঃ জাকিরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ১৯ হাজার ৬০০ প্যাকেট অবৈধ নকল বিড়ি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত নকল বিড়ির আনুমানিক মূল্য ১০ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা বলে জানানো হয়।
এছাড়াও, একই দিন সকাল আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহলকালে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জামালপুর মাঠ এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৬০০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য ২ হাজার ১০০ টাকা।
আটককৃত আসামি ও মাদকদ্রব্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাংনী থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ধবংস করা হবে।
এদিকে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতা রোধে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ প্রায় ৮১.৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। তল্লাশি কার্যক্রম, টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারাগুনিয়া, আবেদেরঘাট, আমলাবাজার, মোশনবাজার, কাথুলী, ধর্মদাহ ও ডাংমড়কা এলাকাসহ বিভিন্ন সীমান্তসংলগ্ন স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চালানো হচ্ছে, যা ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকেই অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টার : আমিরুল ইসলাম