পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি শেষে আজ রোববার (২৯ মার্চ) থেকে দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীদের আবারও শ্রেণিকক্ষে ফেরার এই সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন, রোজা ও ঈদের ছুটির কারণে বছরের প্রথম তিন মাসে স্বাভাবিক শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে সরকার। সেই ঘাটতি দ্রুত কাটিয়ে তুলতে ছুটির পর থেকেই পুরোদমে পাঠদান চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাৎসরিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী, চলতি বছর রমজান ও ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল ৮ মার্চ থেকে। তবে অভিভাবকদের দায়ের করা রিটের পর হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং পরবর্তীতে নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৭ দিন আগেই ছুটি শুরু হয়ে যায়।
পরে সংশোধিত ছুটির তালিকায় ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি নির্ধারণ করা হয়। ফলে দীর্ঘ এই বিরতিতে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যসূচির বাইরে থাকায় তাদের নিয়মিত পড়াশোনায় কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ অবস্থায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি কমাতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের ছুটির পর প্রথম ১০টি শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়া অংশ পূরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শনিবারের ছুটি বাতিলের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘ ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলাকে সামনে রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কয়েকটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। গত ২৫ মার্চ সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু একদিনের প্রস্তুতি নয়, প্রতিদিনই প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার রাখার জন্য নিয়মিত তদারকি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ, বাগান পরিচর্যা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্বুদ্ধমূলক কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এবার শুধু ক্লাসে ফেরা নয়—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে গড়ে তোলার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।