সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র, রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ

  • সময়: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৯.০১ এএম
  • ৩২ জন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর এক মাস পূর্তিতে, সারা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রাস্তায় নেমেছেন হাজারো বিক্ষোভকারী। শনিবারের এই কর্মসূচি ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ‘No Kings’ আন্দোলনের তৃতীয় বড় কর্মসূচি। আয়োজকদের দাবি, এই বিক্ষোভ কেবল যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নয়—এটি একই সঙ্গে কর্তৃত্ববাদ, দমননীতি এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিরুদ্ধেও এক বিস্তৃত জনমত।

‘No Kings’ ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নিউইয়র্ক (New York), লস অ্যাঞ্জেলেস (Los Angeles) এবং ওয়াশিংটন ডিসি (Washington, D.C.)-সহ বড় বড় শহরে ছিল উপচে পড়া ভিড়। একই সঙ্গে রোম (Rome), প্যারিস (Paris) ও বার্লিন (Berlin)-এও হয়েছে সংহতি সমাবেশ।

এবারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—শুধু উদারপন্থী শহরেই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল ও ছোট শহরাঞ্চলেও মানুষকে সংগঠিত করার চেষ্টা। প্রগতিশীল সংগঠন ইনডিভিজিবল (Indivisible)-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ (Leah Greenberg) বলেন, “এই শনিবারের আসল গল্প কত মানুষ নেমেছে, তা নয়—বরং তারা কোথায় নেমেছে, সেটাই বড় বিষয়।”

সবচেয়ে বড় বিক্ষোভটি হয়েছে মিনিয়াপোলিস (Minneapolis)–সেন্ট পল (Saint Paul) এলাকায়। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসনের কথিত ‘Operation Metro Surge’-এর আওতায় সেখানে বিপুলসংখ্যক ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা অভিযান চালায়। আয়োজকদের অভিযোগ, সেই অভিযানে বলপূর্বক ধরপাকড়, বহিষ্কার এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটে। জানুয়ারিতে ওই অভিযানের সময় নিহত হন দুই মার্কিন নাগরিক—অ্যালেক্স প্রেত্তি (Alex Pretti) ও রেনি নিকোল গুড (Renee Nicole Good)। শনিবারের সমাবেশে তাদের স্মরণ করে প্রতিবাদকারীরা বলেন, “রাষ্ট্র যখন নিজ জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখন নীরবতা মানে সমর্থন।”

মিনেসোটার সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স (Bernie Sanders)। সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেন রক কিংবদন্তি ব্রুস স্প্রিংস্টিন (Bruce Springsteen) এবং লোকসংগীতশিল্পী জোয়ান বায়েজ (Joan Baez)। আর ভিডিও বার্তায় অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো (Robert De Niro) বলেন, “আপনাদের সাহস, আপনাদের প্রতিশ্রুতি—এটাই আজকের আমেরিকার সবচেয়ে বড় আশা।”

ওয়াশিংটন ডিসিতেও ছিল বড় জমায়েত। লিংকন মেমোরিয়াল (Lincoln Memorial) ও ওয়াশিংটন মনুমেন্ট (Washington Monument)-এর আশপাশে মিছিলকারীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে অবস্থান নেন। সেখানে বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, “আমরা এই দেশকে কর্তৃত্ববাদ বা ধনকুবেরদের শাসনে ডুবে যেতে দেব না। আমেরিকায় জনগণই হবে শেষ কথা।”

আগের দুটি ‘No Kings’ কর্মসূচি হয়েছিল গত বছরের জুন ও অক্টোবর মাসে, যেখানে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। ধারাবাহিক এই বিক্ষোভ এখন আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কমতে থাকা জনপ্রিয়তা এবং যুদ্ধ, অভিবাসন ও গণতন্ত্র প্রশ্নে বাড়তে থাকা অসন্তোষ—ডেমোক্র্যাটদের জন্য নতুন রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2025 © All rights reserved by BUD News 24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com