বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

আসিফ মাহমুদের ২ একাউন্টে ৯ লাখ ৮৮ হাজার, বাবার ৫ লাখ ৪৭ হাজার

  • সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৯.০৪ এএম
  • ১৩ জন

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তার দুটি ব্যাংক হিসাবে ৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা রয়েছে। তার বাবার পাঁচ একাউন্টে ৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা রয়েছে।

বুধবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাবের এ তথ্য তুলে ধরেন তিনি৷

স্বচ্ছতার স্বার্থে নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, তার বাবার পাঁচটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে—স্যালারি, সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট। সব মিলিয়ে সেখানে জমা আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। তবে তার বাবা ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন, যার বকেয়া রয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সব হিসাব সমন্বয় করলে তার বাবা দেনায় রয়েছেন। তার মায়ের একটি হিসাবে রয়েছে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা। স্ত্রীর একটি হিসাবে রয়েছে ৬১৩ টাকা।

নিজের হিসাবের বিবরণ তুলে ধরে তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত দুটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এর একটি সোনালী ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্ট, যেখানে রয়েছে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। অন্যটি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ব্যবহৃত স্যালারি অ্যাকাউন্ট। ওই হিসাবে বর্তমানে জমা আছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা।

আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে ১৬ মাস দায়িত্ব পালনকালে মাসিক প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বেতন ও ভাতা পেয়েছেন। এ ছাড়া পাঁচটি বিদেশ সফরের টিএ/ডিএ বাবদ কয়েক দফায় অর্থ এসেছে। সব মিলিয়ে ওই হিসাবে মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। দায়িত্ব গ্রহণের আগে ওই হিসাবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিল বলে জানান তিনি।

তার দাবি, এই হিসাবে যে অর্থ জমা হয়েছে তা সম্পূর্ণই সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) সিস্টেমের মাধ্যমে এসেছে। এর বাইরে অন্য কোনো উৎস থেকে এক টাকাও জমা হয়নি।

প্রয়োজনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও রেকর্ড সংগ্রহ করা যাবে উল্লেখ করে সব মিলিয়ে তার ও পরিবারের মোট নয়টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁর ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে। মোট ৫৬ জনের হিসাব চাওয়া হলেও শুধু তার বিষয়টি আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্ত করতে চাইলে তারা করতেই পারে। কিন্তু একটি ‘কনফিডেনশিয়াল’ চিঠির তথ্য সাংবাদিকদের গ্রুপে দিয়ে প্রচার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আসিফ মাহমুদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে আসার পর নতুন করে প্রোপাগান্ডা শুরু হয়েছে।

তার অভিযোগ, একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তার ও দলের বিরুদ্ধে ‘ন্যারেটিভ’ (বয়ান) তৈরি করছে। ব্যাংক হিসাব তলব করে রহস্য তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে—না জানি কী আছে সেখানে। তাই আজই সব প্রকাশ করলাম।

সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, সরকারে দায়িত্বে থাকার সময় কিংবা পদত্যাগের পর নানা ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের বেশিরভাগই ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

দুদকে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, একটি গ্রুপ তার বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, একজন ক্রিকেটারকে দেশে খেলতে না দেওয়ার কারণে দেশের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আসিফ মাহমুদ বলেন, এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

টেন্ডার–সংক্রান্ত প্রশ্নে

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আসিফ মাহমুদ বলেন, সিটি করপোরেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারা নেয়। মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা সীমিত।

আসিস মাহমুদ এ বিষয়ে আরও বলেন, ই-জিপি পদ্ধতি স্বচ্ছ এবং যে কেউ চাইলে প্রক্রিয়াটি দেখতে পারেন। যদি কোনো অভিযোগ থাকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত হতে পারে।

সংবাদ প্রকাশে বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, দুই পক্ষের বক্তব্য না নিয়ে ‘সূত্র মতে’ বা ‘গোপন সূত্রে’ শিরোনাম করা হলে গণমাধ্যমের মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমার কোনো কিছু লুকানোর নেই। দায়িত্বে থাকাকালেও স্বচ্ছতা বজায় রেখেছি, ভবিষ্যতেও রাখব।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2025 © All rights reserved by BUD News 24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com