একটি বেসরকারি টেলিভিশন টক শোতে অংশগ্রহণ করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে তার দল বিলুপ্ত করে জাতীয় নাগরিক কমিটিতে (এনসিপি) যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন নব গঠিত সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ যগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ।
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে তাৎক্ষণিকভাবে পোস্টে বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদ একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল’ আমাদের নিবাচনী মার্কা ট্রাক। নুতন অনিবন্ধিত দলগুলো গণঅধিবার পরিষদে যোগ দিতে পারেন। আমাদের দরজা খোলা আছে।’
পরে গণঅধিকার পরিষদ এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবদুল হান্নান মাসুদের বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানায়।
গত রোববার একটি টক শোতে আবদুল হান্নান মাসউদ নুরুল হক এনসিপির নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন, এমন অভিযোগ তুলে বলেন, ‘এটা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়নি।…আলাপ-আলোচনা চলছে। তিনি (নুরুল হক) চাইলে যেকোনো দিন আসতে পারেন। অথবা তিনি যদি তার দলে আমাদের নিতে চান, তাহলে আমরাও তো যেতে পারি। সেটা তো সমস্যা নেই (হাসি)।’
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ইতালিতে অবস্থান করা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুলহক নুর বলেন, তিনি নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিতে যোগ দিতে চাননি। এ বিষয়ে এখন যে ধরনের প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো বিভ্রান্তিকর।’
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, নতুন দলে যারা নেতৃত্বে আছেন, তাদের অনেকেই তার কর্মী ছিলেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় নানাভাবে তাদের সহযোগিতা করেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন। দল গঠনের সময়ও তাদের সঙ্গে নানা প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদ একটি নিবন্ধিত ও পরিচিত রাজনৈতিক দল,। এজন্য আমি তাদের সবাইকেই আহ্বান জানিয়েছিলাম আমাদের দলে এসে কাজ করার জন্য। কিন্তু তারা রাজি হননি।
এদিকে সোমবার রাতে গণঅধিকার পরিষদ তাদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এই মুহূর্তে সাংগঠনিক সফরে ইউরোপ অবস্থান করছেন। গণঅধিকার পরিষদ ট্রাক প্রতীকে নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দল। গণঅধিকার পরিষদ শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী স্বৈরশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে গণতন্ত্র ও গণমানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথের ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রাম মধ্য দিয়ে আকাঙ্ক্ষা থেকে গড়ে উঠা বাংলাদেশের একমাত্র অর্গানিক দল। শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে দেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গণঅধিকার পরিষদ এদেশের মানুষের নিপীড়িত-শোষিত, বঞ্চিত মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করে গেছে।
নেতারা বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর শেখ হাসিনার শত কোটি টাকা ও এমপি-মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ প্রত্যাখান করে মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে রাজপথকে বেছে নিয়েছে। যে নুরুল হক নুর ও দেশে-বিদেশে গণঅধিকার পরিষদের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হয়রানি, লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত, এমনকি কারাবরণ করতে হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদেশের মানুষ জানে শেখ হাসিনার ভয়ংকর ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর ক্রমাগত ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মাধ্যমে উত্থিত বিপ্লবী তরুণ শক্তির আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই গণঅধিকার পরিষদের জন্ম এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংগঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রূপকার নুরুল হক নুর এই তরুণ শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে জনআকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তার অর্থ এই নয় যে, তিনি তার দল বিলুপ্ত করে অন্য পার্টিতে যোগদান করবেন। আমরা আশ্চর্যজনকভাবে লক্ষ্য করেছি জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে ও গণঅধিকার পরিষদের ইমেজ ক্ষুন্ন করতে কেউ কেউ তার এই মহৎ আকাঙ্ক্ষাকে বিকৃত ও অসৎ উদ্দেশ্যে প্রচারের চেষ্টা করছেন।
গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ সকলকে এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।