গাজীপুরের তামীরুল মিল্লাত মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিবিরের টঙ্গী পশ্চিম সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সভাপতি রাব্বির ওপর হামলার ঘটনায় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।
শুক্রবার দুপুরে মিল্লাত মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এক সংবাদ সম্মেলনে ফজলে রাব্বি তার নিরাপত্তা ও হামলায় জড়িত ছাত্রদল কর্মীদের বিচারের দাবি জানান।
এদিকে শুক্রবার বিকেলে ওই হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের কেউ জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিরন। তিনি জানান, ছাত্রশিবিরের নেতা ফজলে রাব্বি ও ভূঁইয়া মামুন একে অপরের সহপাঠী ও বন্ধু। যতদূর জানতে পেরেছি, মামুনের বান্ধবীর মোবাইলে ক্ষুদেবার্তা পাঠানোকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র শিবির একটি ‘গুপ্ত সংগঠন’। তারা আওয়ামী লীগের আমলে ছাত্রলীগের সাথে মিশে মাথায় হেলমেট পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। এখনও তারা তাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে সামনে এনে ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই।
অপরদিকে ভুক্তভোগী ফজলে রাব্বি সিফাত বলেন, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কুয়েটের ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় তামীরুল মিল্লাত টঙ্গী শাখার প্রতিবাদ মিছিলে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। এঘটনার পর ছাত্রদল কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে আসছিল। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসার মূল ফটকের বিপরীতে বাঁশপট্টি এলাকায় তাকে ডেকে নিয়ে যায় ছাত্রদল কর্মী ভুঁইয়া মামুন। সেখানে পূর্ব থেকেই ওঁতপেতে থাকা মাহফুজ, নাহিয়ান, নাবিউল ও সামি শিকদারসহ ৮-১০জন ছাত্রদল কর্মী তাকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, শিবির নেতাকে মারধরের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। এঘটনায় ভুঁইয়া মামুন নামে একজনকে গ্রেফতার করে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তামীরুল মিল্লাত ছাত্রশিবিরের টঙ্গী পশ্চিম সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সভাপতি ফজলে রাব্বি সিফাতকে ডেকে নিয়ে ভুঁইয়া মামুনসহ আরও ৮-১০জন মিলে মারধর ও কুপিয়ে আহত করে।