বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন

হাতকড়া বিতর্কে উত্তাল ভারত

  • সময়: সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫, ১০.৩৯ এএম
  • ৪৬ জন

দ্বিতীয় দফায় অবৈধ অভিবাসীদের ভারতে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হাতকড়া-শিকল বিতর্ক এবারও পিছু ছাড়ল না। তাদের হাতকড়া পরিয়েই বিমানে নিয়ে আসা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তাদের পা-ও বাঁধা ছিল শেকল দিয়ে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জড়িয়ে এ সংক্রান্ত একটি ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ছাপায় তামিলনাড়ুর সাপ্তাহিক পত্রিকা ভিকাতান।

এরপর থেকে সাপ্তাহিকের ওয়েবসাইট আর খোলা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে মোদির তীব্র সমালোচনা করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান। ফলে হাতকড়া বিতর্কে এক প্রকার উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশটিতে। এদিকে ভারতের ২১ মিলিয়ন ডলার অনুদান বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা, দ্য হিন্দু, ইন্ডিয়া টুডে ও ইয়েস পাঞ্জাবের।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবর অনুসারে, গত শনিবার রাতে দ্বিতীয় দফায় অবৈধ অভিবাসীদের ভারতে ফেরত পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে থাকা দলজিৎ সিংহ নামে একজন দাবি করেন, তাদের হাতকড়া পরিয়েই বিমানে নিয়ে আসা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তাদের পা-ও বাঁধা ছিল শিকলে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির সাক্ষাতের পর এই প্রথম বিমান বোঝাই করে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের পাঠানো সামরিক বিমানে ভারতীয় অবৈধ অভিবাসীদের হাতকড়া পরিয়ে, শিকলে বেঁধে নিয়ে আসা হয়েছিল। তা নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। প্রশ্ন ওঠে সংসদেও।

বিতর্কের আবহেই দু’দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান মোদি। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন হোয়াইট হাউসে। দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকের পর দ্বিতীয় দফার অবৈধবাসীদের কী অবস্থায় ফেরানো হয়, সেদিকে কৌতূহলী নজর ছিল ভারতের। কিন্তু পরিস্থিতি একটুকুও বদলায়নি।

কংগ্রেস নেতা তথা সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই কৌতূহল উসকে দিয়ে লেখেন, ‘এটি ভারতীয় কূটনীতির পরীক্ষা।’

এই কৌতূহলের মধ্যেই গত শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সি-১৭ গ্লোবমাস্টার অবতরণ করে পাঞ্জাবের অমৃতসর বিমানবন্দরে। ফেরত পাঠানো হয় ১১৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে।

প্রথম দফায় হাতকড়া-শিকল বিতর্কের মধ্যে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সংসদে এ নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি সংসদে জানান, আমেরিকার নিজস্ব আইন অনুসারেই হাতকড়া-শিকল পরানো হয় অবৈধ অভিবাসীদের।

মোদির সমালোচনা

হাতকড়া বিতর্কে মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান। পাশাপাশি তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বারবার নির্বাসিতদের বহনকারী বিমান পাঠিয়ে তারা যেন পবিত্র শহর অমৃতসরকে ‘আটক বা নির্বাসিত’ কেন্দ্রে পরিণত না করে।

দেশবাসীর স্বার্থ সুরক্ষিত করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য মোদি সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করেছে। দুর্ভাগ্যজনক যে, বর্তমান সরকারের অধীনে দেশ কার্যকর পররাষ্ট্র নীতির অভাবে ভুগছে, যার কারণে বিতাড়িতদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।

‘একদিকে প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জড়িয়ে ধরছিলেন এবং একই সঙ্গে শৃঙ্খলিত ভারতীয়দের লজ্জাজনকভাবে তাদের জন্মভূমিতে ফেরত পাঠানো হচ্ছিল’, যোগ করেন ভগবন্ত সিং।

সাপ্তাহিকের ওয়েবসাইট বন্ধ

আমেরিকা থেকে হাতে হাতকড়া, পায়ে বেড়ি পরিয়ে ভারতীয় অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, এ ঘটনার নিন্দার পরিবর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে খুবই আন্তরিক পরিবেশে সাক্ষাৎ করেন মোদি— এ ঘটনাকে ব্যঙ্গ করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি কার্টুন ছাপে তামিলনাড়ুর সাপ্তাহিক পত্রিকা ভিকাতান। এতে দেখা যায়, ট্রাম্পের সামনে শিকলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মোদি বসে রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্টুনটি ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। বিষয়টি নিয়ে তামিলনাড়ু বিজেপি অভিযোগ জানায়। এরপর থেকেই পত্রিকার ওয়েবসাইটটি খোলা যাচ্ছে না বলে একাধিক জায়গা থেকে অভিযোগ সামনে এসেছে। পত্রিকার পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, এক শতকেরও বেশি সময় ধরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নীতি মেনে কাজ করে আসছি আমরা। আমরা বরাবর বাক্‌স্বাধীনতার পক্ষে ছিলাম এবং আগামী দিনেও থাকব।

এ নিয়ে সরব হয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ডিএমকে নেতা এমকে স্ট্যালিন। তিনি লেখেন, ভিকাতান-এর ওয়েবসাইটটি অচল করে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ১০০ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছে ওরা। মতপ্রকাশের জন্য সংবাদমাধ্যমকে ব্লক করে দেওয়া গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। বিজেপির ফ্যাসিবাদী আচরণের পরিচয় এটা। অবিলম্বে ওয়েবসাইটটি চালু করতে অনুরোধ জানাচ্ছি।

২১ মিলিয়ন ডলার অনুদান বাতিল

ভারতীয় ভোটারদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য ২১ মিলিয়ন ডলার অনুদান বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সির এক্স হ্যান্ডেলে গতকাল রোববার এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। এই দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক।

ওই পোস্টে জানানো হয়, আমেরিকা সরকারের খরচে কাটছাঁট করতে বেশকিছু অনুদান বন্ধ করা হচ্ছে। বিশ্বের নানা দেশে কোন প্রকল্প বন্ধ হবে, তার তালিকাও দেওয়া হয়েছে ওই পোস্টে। সেখানেই দেখা যাচ্ছে, ভারতীয়দের নির্বাচনে উৎসাহিত করতে ২১ মিলিয়ন ডলার খরচ করত আমেরিকা। ভারতীয় মুদ্রায় এই অঙ্কটা প্রায় ১৮২ কোটি টাকা। সে অনুদানই বাতিল করা হলো।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved by BUD News 24-2025
Developed BY www.budnews24.com