জুলাই-আগস্টের ধাক্কা সামলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন নিবন্ধন প্রদানে ছয় মাসে ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় এনবিআর।
জানাগেছে, যদিও আগস্ট মাসে এ হার নেতিবাচক ছিল ২৫ শতাংশ এনবিআরের উদ্যোগে বার্ষিক টার্নওভার কমিয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের ভ্যাট নিবন্ধনের সংখ্যা বেড়েছে।
জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্যে বিভিন্ন ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। গত ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে নিবন্ধন সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৬৪৪টি, কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে মাসে নিবন্ধন সংখ্যা কমে ৪ হাজার ২২৮টি হয়। অর্থাৎ একই সময়ের তুলনায় নতুন নিবন্ধন সংখ্যা ২৫ শতাংশ কমে যায়। পরবর্তীতে এনবিআরের নতুন প্রশাসন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নতুন ভ্যাটদাতা শনাক্তকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেন। ফলে পরবর্তী ছয়মাসে অর্থাৎ গত আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত নতুন নিবন্ধনের হার ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে পরবর্তী ছয় মাসে নতুন নিবন্ধন সংখ্যা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার প্রত্যাশা এনবিআরের।
নতুন ভ্যাট নিবন্ধন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এনবিআর ইতোমধ্যে ভ্যাটযোগ্য বার্ষিক টার্নওভার সীমা ৩ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে। ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ভ্যাটমুক্ত ও ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের আওতায় রাখা হয়েছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ অনুযায়ী ভ্যাটের এ আওতা বাড়ানো হয়। যার ফলশ্রুতিতে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী ছয়মাসে বিগত একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি প্রতিষ্ঠানকে নতুন নিবন্ধন প্রদানের মাধ্যমে ভ্যাট নেটে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ের সকল কমিশনারদেরকে নতুন নিবন্ধন প্রদান ও আইনানুগ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে করদাতাদের সঙ্গে সেবামূলক মনোবৃত্তি বজায় রাখার নির্দেশনা প্রদান করেছে। এছাড়া সব কর্মকর্তাদেরকে নতুন ভ্যাটদাতা বাড়ানো জন্য মেধাজাত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আউট অব দা বক্সে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। কর্মকর্তাদের কর্মপ্রবণতা, দক্ষতা ও সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে নিবন্ধন সংখ্যা প্রবৃদ্ধিতে সফল কর্মকর্তাকে ‘বিশেষ স্বীকৃতি’ প্রদান করা হবে।