তবে রাষ্ট্রপতির এ অভিপ্রায়ের বিষয়ে সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা অভিমত পাওয়া যায়নি। এর আগে সরকারের মন্ত্রিসভার তিনজন সিনিয়র সদস্যের মতামত নেয় আমার দেশ। তারা সে সময় জানান, রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক অভিভাবক, তিনি যতদিন এ পদে থাকবেন সরকারে তার সাংবিধানিক সম্পর্ক বজায় থাকবে। তিনি পদ থেকে ইস্তফা দিলে সংবিধান অনুযায়ী শূন্যতা পূরণ হবে; যেহেতু অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি শক্তিশালী সংসদ কার্যকর রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের অভিপ্রায় ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বঙ্গভবনের ওই সূত্রটি জানিয়েছে, তিনি খুবই অসুস্থ। এ অবস্থায় তার দায়িত্ব অব্যাহত রাখা অসম্ভব। চলতি মাসেই দুদফায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন তিনি। তার সিটি স্ক্যান ও এমআরআই রিপোর্ট ভালো আসেনি। হৃদরোগজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি তার নিউরোলোজিক্যাল সমস্যা ধরা পড়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের টিম রাষ্ট্রপতিকে অতি দ্রুত উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার কথাও বলেছেন তারা। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এ মুহূর্তে তার চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে পরিবারও।
ওই কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে মেডিকেল চেকআপ করে এসেছেন। এখন আবার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা বলা শোভনীয় হবে না। রাষ্ট্রেরও কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। প্রক্রিয়া শেষে চলতি মাসেই তিনি বঙ্গভবন ছাড়বেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
জুলাই বিপ্লবের পর থেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি ওঠে। তার পদত্যাগের দাবিতে ওই সময় জুলাই বিপ্লবীরা একাধিকবার বঙ্গভবন ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করেন। রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিতে ওই সময় অন্তর্বর্তী সরকারেরও সায় ছিল বলে জানা যায়।
তবে রাষ্ট্রপতি চলে গেলে ‘সাংবাধানিক সংকট হবে’ এক বা একাধিক দলের এমন যুক্তির কারণে শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। অবশ্য পদত্যাগ নিশ্চিত করা না গেলেও ওই সময় রাষ্ট্রপতিকে অনেকটাই একঘরে করে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়।
বিএনপির নেতৃত্বে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমদিকে হাসিনার ‘আস্থাভাজন’ রাষ্ট্রপতিকে বিদায় দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু ‘সেফ এক্সিট’ ও ‘চতুর্থদশ নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতি পদে কে থাকবেন’ এমন আলোচনা সামনে এলে তা বেশিদূর আগায়নি। এ সময় সরকার রাষ্ট্রপতির বিষয়ে কিছুটা ‘সফট’ হন বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতির ‘অভিপ্রায়ে’ এক বছর সময় দেওয়ার সম্মতি মেলে। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরিয়ে নেওয়া প্রেস সচিবকে আবারও রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পদায়ন করা হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির দফতরে একাধিক কর্মকর্তাকে পদায়ন করে তার জনবল বাড়ানো হয়।
তবে লন্ডন সফরের পর সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির দূরত্ব তৈরি হয়। সরকারের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়, সফরে হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি যোগাযোগ করেছেন। লন্ডন আওয়ামী লীগের এক নেতার মাধ্যমে তিনি ওই সময়ে ভারতে পলাতক হাসিনার সঙ্গে টেফিফোনে কথাও বলেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ও রাষ্ট্রপতির সম্পর্কের চরম অবনতি হয়। অর্থবিল সই ও বাজেট অধিবেশন প্রত্যক্ষণ করতে গত ১১ জুন রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদে গেলে সরকারের সংশ্লিষ্ট্র কেউ তার সঙ্গে সাক্ষাতও করেননি বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্ব আর চরম আস্থার সংকটে পড়ে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের পথেই হাঁটতে হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির বিদায়ের সম্ভাবনা প্রবল। ইতোমধ্যে বঙ্গভবন থেকে এমন স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে ।
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের আভাস দিয়েছেন। আগামী সাতদিনের মধ্যে এ বিষয়টি দৃশ্যমান হতে পারে বলে বঙ্গভবন ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির পদে শপথ নেন। এ হিসাবে তিনি এখন পর্যন্ত তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব করেন।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী [১২৩(৩) অনুচ্ছেদ] পদত্যাগ মৃত্যু বা অপসরণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে এ তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
যা বলেছেন রাষ্ট্রপতি
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় নিজের বেশকিছু আগ্রহ আর ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। ওই সময় তার পদত্যাগের প্রসঙ্গটিও এসেছিল। বঙ্গভবনে এখন কেমন আছেন, কবে নাগাদ পদ ছাড়তে চান? এমন প্রশ্ন ছিল রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছে। জবাবে স্মিত হেসে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ পদে আছি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে থেকে রাষ্ট্রের কল্যাণে যতটুকু করার সর্বোচ্চটা করার চেষ্টা করেছি। এখন সম্মানের সঙ্গে যেতে চাই। সরকার যখন বলবে, আমি বঙ্গভবন ছাড়তে প্রস্তুত।
]]>রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের বন্ধুরা বিভিন্নভাবে আমাদের ইগনোর করার চেষ্টা করছেন। আমাদের বিভিন্নভাবে ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করছেন। আমি মনে করি এ সময়টা সঠিক নয়। নিজেদের দিকেও আপনাদের ফিরে তাকানো দরকার। একাত্তর সম্পর্কে আপনারা পরিষ্কার করে বলেন না।
এ সময় বিরোধীদল থেকে কিছু একটা বলা হলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আপনারা পরিষ্কার করে বলেন না। আমি আজ পর্যন্ত শুনেনি। কেউ শুনেনি। আপনারা এটা স্বীকার করে নিলে রাজনীতি করার সহজ হয়ে যাবে।
এনসিপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তারা এমন একটা দলের সঙ্গে জোট করেছে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে নাই। আমি আশা করব, তারা তাদের রাজনীতিটা আরও পরিষ্কার করে সামনের দিকে নিয়ে আসবে। এ নবীন রাজনীতিবিদদের অনেক ভবিষ্যৎ আছে। তারা ভালো করবে। আমরা চায় তারা ভালো করুক। এমন কোনো স্টিগমা নিয়ে তারা যেন পলিটিক্সে না থাকে, যে যারা বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে অস্বীকার করে চলেছে।
]]>বুধবার সংসদে আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান বিষয়টি উত্থাপন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি কোনো ব্যক্তির গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নেননি।
ঘটনার ব্যাখ্যায় তিনি জানান, বিদেশ থেকে ফেরার পর কক্সবাজারে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিল। বিমানবন্দরে ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশ করতে না পারায় সমর্থকেরা তাকে যে গাড়িতে উঠিয়ে দেন, তিনি সেটিতেই যাত্রা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, পরে তিনি জানতে পারেন যে গাড়িটি বহু পুরোনো এবং এ নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে এ জন্য তিনি আগেই জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
নিজের আর্থিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার নিজস্ব চারটি গাড়ি ও চারজন ড্রাইভার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টিকে একটি পুরোনো ও নিষ্পত্তিকৃত ইস্যু উল্লেখ করে এ সংক্রান্ত মন্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
]]>স্থানীয় সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ স্তর—সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন চলতি বছর হচ্ছে না। তবে চলতি বছরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু হতে পারে। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকার তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের জন্য ইউপি নির্বাচনকে একটি ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে দেখছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এটি বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক পরীক্ষা হতে পারে।
যদিও স্থানীয় সরকারের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে, তবুও এখন পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কেবল রুটিন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে এখনো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় নিয়ে সরকার আপাতত সিটি, পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচন পিছিয়ে রাখছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে, আর জামায়াত ও ১১-দলীয় জোটও সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।
সূত্র বলছে, প্রথম ধাপে সরকার-সমর্থিত শক্ত অবস্থানের কিছু ইউনিয়নে ভোট আয়োজন করা হতে পারে। ফলাফল অনুকূলে থাকলে দ্রুত দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে, আর প্রত্যাশিত ফল না এলে পরবর্তী ধাপ ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নির্দলীয় কাঠামোয় পরিচালনার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ করছে। আগামী ১৫ জুন খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে জনমত নেওয়া হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৩৩০টি পৌরসভা রয়েছে। অধিকাংশই বর্তমানে প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটি বিশেষ নির্বাচনি ক্যালেন্ডারভিত্তিক সফটওয়্যার প্রস্তুত করেছে এবং প্রাথমিক কারিগরি কাজও শুরু করেছে। প্রয়োজনীয় বাজেট ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
]]>সোমবার (৮ জুন) ঝালকাঠির নলছিটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়ে এ বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি দ্রুত ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং কোনো রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক পক্ষ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্তের আহ্বান জানান।
মাছুমা হাদি অভিযোগ করেন, বারবার চার্জশিট দাখিলের সময় পরিবর্তন হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি ভারত থেকে মামলার আসামি শুটার ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীরকে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে হত্যার পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও অর্থের জোগানদাতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে জাতির সামনে তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় ওসমান হাদির ভগ্নিপতি মো. আমির হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
]]>ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।
সরকার জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাওয়ার পয়েন্ট, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও গ্রাফিক্সের মাধ্যমে বাজেট তুলে ধরা হবে। প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেটের ওপর বিস্তারিত আলোচনার পর আগামী ৩০ জুন এটি পাস হওয়ার কথা রয়েছে। অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন এবং সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে।
এদিকে অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নির্দিষ্ট এলাকায় সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ডিএমপি।
]]>সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি সরকারি খালের দখল ও মাছ শিকারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার খুঁটিকাটা-কাঠালবাড়িয়া গ্রামের সংক্রান্তির খাল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেন, বিএনপি কর্মী কবির হোসেন, শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদ, শিবির কর্মী আরাফাত হোসেন, আক্তার হোসেন, নাজমা খাতুন, মোমিন মোড়ল ও লায়লা বেগম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি সংক্রান্তির খালে জাল ফেলে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় খালটি ইজারা নিয়েছেন বলে দাবি করা আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলামের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নিলে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
অভিযোগ রয়েছে, আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পরও উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। এ সময় শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।
জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন বলেন, খালটির ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে ইজারা না থাকলেও সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছিল। স্থানীয় দরিদ্র মানুষ মাছ ধরতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি খালটির পুনরায় ইজারার জন্য আবেদন করেছেন এবং পূর্ব থেকেই সেখানে মাছ চাষ করে আসছিলেন। খালে মাছ ধরতে বাধা দিলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, এতে তাদের পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, খালটিতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরাও আহত হয়েছেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাকির হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সরকারি খালকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পরও কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিস-কে ৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ১৯০টি সদস্য রাষ্ট্রের ভোটের মধ্যে বাংলাদেশ পায় ৯৯ ভোট, আর সাইপ্রাসের পক্ষে পড়ে ৯১ ভোট।
আগামী সেপ্টেম্বরে ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক ফোরামে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
নির্বাচনের পর ড. খলিলুর রহমান বলেন, তিনি একজন পূর্ণকালীন ও নিরপেক্ষ সভাপতি হিসেবে কাজ করবেন এবং সব সদস্য রাষ্ট্রের স্বার্থকে সমান গুরুত্ব দেবেন। তিনি জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি সমুন্নত রাখা এবং বিশেষ করে ছোট প্রতিনিধিদলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘের আঞ্চলিক রোটেশন নীতি অনুযায়ী ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের জন্য বরাদ্দ ছিল। যদিও ভৌগোলিকভাবে ইউরোপে অবস্থিত, কূটনৈতিক গ্রুপিংয়ে সাইপ্রাস এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সদস্য হওয়ায় দেশটি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
বাংলাদেশের জন্য এই জয় কেবল একটি কূটনৈতিক অর্জন নয়; এটি শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সংক্রান্ত আলোচনায় আরও সক্রিয় ও প্রভাবশালী ভূমিকা রাখার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। ফলে ৪০ বছর পর আবারও এই মর্যাদাপূর্ণ পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধির নির্বাচিত হওয়া দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
]]>সোমবার (১ জুন) বিকেলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে নরসিংদীর পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মঈন খান বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষক নন, তিনি মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছিলেন। নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা বিএনপির দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভুল ইতিহাস প্রচার করেছে। এছাড়া দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে মঈন খান বলেন, তিনি দেশের স্বার্থে জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রঃ ইত্তেফাক
]]>পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ডাকসুর ভিপি ছিলেন এবং ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
]]>