যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ইসরাইলের নতুন হামলার জেরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
ফলে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল সম্পূর্ণভাবে স্থগিত হয়ে গেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকাল থেকে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল পুরোপুরি থেমে যায়।
সবশেষ বুধবারের ইসরাইলি হামলায় লেবাননে অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৬৫ জন।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে,
যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে ইসরাইল লেবাননে হামলা চালানোর পরই তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনাও একই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে বুধবার সকালে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শর্ত মেনে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।
সেই সময় ইরানের অনুমতি নিয়ে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিল।
তবে লেবাননে নতুন করে হামলা শুরু হতেই বাকি সব ট্যাংকারের চলাচল স্থগিত করে তেহরান।
ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল—
লেবাননসহ ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’-এর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ রাখতে হবে।
কিন্তু ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে,
তাদের যুদ্ধবিরতি কেবল ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য,
লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
ইসরাইলের নতুন হামলা এবং তার জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায়,
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার সদ্য কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ফারস নিউজের বরাতে জানা গেছে,
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরাইলের দখলকৃত অঞ্চলে সামরিক অবস্থানগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে ইরান।
সূত্র: সিএনএন