মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

  • সময়: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৯.৩০ এএম
  • ২৪ জন

পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ১১ রানের জয় তুলে নিয়ে ২–১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে Bangladesh national cricket team (বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল)। শেষ দিকে হিসেবি ক্রিকেট খেলতে না পারায় জয়ের কাছাকাছি গিয়েও ম্যাচ হাতছাড়া করে Pakistan national cricket team (পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল)।

রোববার মিরপুরের Sher-e-Bangla National Cricket Stadium (শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম)-এ প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৯০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ২৭৯ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান।

২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ১৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে তারা। এরপর আব্দুল সামাদ ও গাজী গৌরি চতুর্থ উইকেটে ৬৭ বলে ৫০ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তখন একসময় পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৬৭ রান।

তবে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে গাজী গৌরি ও আব্দুল সামাদকে সাজঘরে ফেরান Nahid Rana (নাহিদ রানা) ও Mustafizur Rahman (মোস্তাফিজুর রহমান)। আবারও চাপে পড়ে পাকিস্তান।

এরপর ছয় নম্বরে নেমে মিডল ও লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে অবিশ্বাস্য লড়াই করেন Salman Ali Agha (সালমান আলি আগা)। অভিষেক হওয়া তরুণ ব্যাটসম্যান সাদ মাকসুদের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৮২ বলে ৭৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। এরপর সপ্তম উইকেটে Faheem Ashraf (ফাহিম আশরাফ)-এর সঙ্গে ৪৯ বলে ৪৮ রান যোগ করেন।

অষ্টম উইকেটে তার সঙ্গ দেন তারকা পেসার Shaheen Shah Afridi (শাহিন শাহ আফ্রিদি)। এই জুটিতে ৪৯ বলে ৫২ রান আসে।

জয়ের জন্য শেষ ১৫ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩০ রান। এমন অবস্থায় Taskin Ahmed (তাসকিন আহমেদ)-এর বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন সালমান আলি আগা। তিনি ৯৮ বলে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১০৬ রান করে আউট হন। তার বিদায়ে পাকিস্তানের জয়ের আশা বড় ধাক্কা খায়।

এরপরও লড়াই চালিয়ে যান শাহিন আফ্রিদি। ইনিংসের ৪৯তম ওভারে Mustafizur Rahman (মোস্তাফিজুর রহমান)-এর ওভারে দুটি ছক্কাসহ ১৫ রান তোলেন তিনি। তবে ওই ওভারের শেষ বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন Haris Rauf (হারিস রউফ)।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৪ রান। বল হাতে ছিলেন Rishad Hossain (রিশাদ হোসেন)। প্রথম বল ডট হয়। দ্বিতীয় বলে শাহিন আফ্রিদির ক্যাচ ফেলেন বোলার রিশাদ নিজেই।

শেষ ৩ বলে প্রয়োজন ছিল ১২ রান। কিন্তু চাপ সামলাতে পারেনি পাকিস্তান। শেষ দুই বলেও কোনো রান নিতে না পারায় ১১ রানের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ফলে বিফলে যায় সালমান আলি আগার দুর্দান্ত সেঞ্চুরি।

এর আগে টস জিতে পাকিস্তান বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন টাইগার ওপেনাররা। বিনা উইকেটে ১০০ রান তুলে দলকে শক্ত ভিত এনে দেন তারা।

দলীয় ১০৫ রানে Saif Hasan (সাইফ হাসান) ৩৬ রান করে আউট হলেও অন্য প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং চালিয়ে যান Tanzid Hasan Tamim (তানজিদ হাসান তামিম)। এরপর Najmul Hossain Shanto (নাজমুল হোসেন শান্ত) ২৭ রান করে আউট হয়ে গেলে তাকে সঙ্গ দেন Litton Das (লিটন দাস)।

৩৩তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা মেরে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ তামিম। ৯৮ বলে ৭ ছক্কা ও ৬ চারে সাজানো ছিল তার ১০৭ রানের ইনিংস।

পরে লিটন দাস ৫১ বলে ৪১ রান করে আউট হন। তবে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন Towhid Hridoy (তাওহীদ হৃদয়)। তার ৪৪ বলে ৪৮ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রান তোলে বাংলাদেশ।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2025 © All rights reserved by BUD News 24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com