| নিজস্ব প্রতিবেদক, ধামরাই
ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও ১২ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী তাসনিম নাবিলার ওপর থেকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা প্রত্যাহার করে নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি ধামরাই উপজেলা শাখা। নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও তথ্যের ঘাটতি ছিল স্বীকার করে দলটির স্থানীয় নেতারা এখন থেকে নাবিলার ‘শাপলা ফুল’ প্রতীকের বিজয়ে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টি ঢাকা জেলার প্রধান সমন্বয়ক মো. রাসেল মোল্লা এবং ধামরাই উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক ইসরাফিল কবিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাসেল মোল্লা বলেন, “গত ২৯ ডিসেম্বর আমাদের ধামরাই উপজেলার নেতৃবৃন্দ আবেগের বশবর্তী হয়ে এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে আলোচনার অভাবে আমাদের জোটের প্রার্থী তাসনিম নাবিলাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিলেন। মূলত সম্পর্কের দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এমনটি হয়েছিল। আমরা আজ দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে সেই দূরত্বের অবসান ঘটিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। নিজেদের সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে যদি আমরা বিভক্ত থাকি, তবে তা পরাজয়ের কারণ হবে। তাই সব মান-অভিমান ভুলে আমরা তাসনিম নাবিলাকে ধামরাইয়ে বিজয়ী করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।”
ধামরাই উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়ক ইসরাফিল কবির বলেন, “গত ১০ ডিসেম্বর নাবিলা আপাকে প্রার্থী করার পর কিছু মিস-ইনফরমেশন ও কমিউনিকেশন গ্যাপের কারণে আমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং জেলা সমন্বয়ক রাসেল ভাইয়ের মাধ্যমে আমরা সঠিক তথ্য জানতে পারি এবং আমাদের ভুল ভাঙে। আজ থেকে ধামরাই উপজেলা নেতৃবৃন্দ শাপলা প্রতীকের বিজয়ের আগ পর্যন্ত মাঠে থাকবে।”
এ সময় প্রার্থী তাসনিম নাবিলা বলেন, “কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি আগেই পরিষ্কার হয়েছে। আমাদের মধ্যে যে গ্যাপ ছিল তা আজ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলো। আশা করি এ নিয়ে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।”
উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-২০ আসনে ১২ দলীয় জোটের সমর্থনে জাতীয় নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে তাসনিম নাবিলা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটে যাওয়ায় এখন জোর প্রচারণায় নামার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।