| ফাহিমা আক্তার, জবি প্রতিনিধি
গ্রীন ভয়েস একটি স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশবাদী যুব সংগঠন, যা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সচেতনতা এবং দূষণবিরোধী আন্দোলনে তরুণদের সম্পৃক্ত করে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনের লক্ষ্যে সংগঠনটি দেশব্যাপী নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প”-এর অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের ক্যাম্পেইন ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম। এই কার্যক্রম টানা ১০ কর্মদিবস চলবে।
ক্যাম্পেইনে পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী মাত্রাতিরিক্ত শব্দকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ঘটনাস্থলেই জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চলমান এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমে গ্রীন ভয়েসের ঢাকার প্রায় ১৫টি ইউনিটের শতাধিক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সাত কলেজ, তেজগাঁও কলেজসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছে।
এর অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গ্রীন ভয়েস ইউনিটের শিক্ষার্থীরা গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পথচারী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করছে। তারা “হর্ন বাজানো নিষেধ”, “অহেতুক হর্ন নয়” এবং “শব্দদূষণ শ্রবণশক্তি নষ্ট করে”—এমন বার্তাসম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করছে।
একই সঙ্গে যানবাহনে অহেতুক হর্ন না বাজানোর স্লোগানসম্বলিত স্টিকার লাগানো হচ্ছে এবং পথচারী ও চালকদের মাঝে শব্দদূষণ বিষয়ক তথ্যসম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, শব্দদূষণ শুধু জনদুর্ভোগ নয়, এটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ—এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজিমপুর, নিউমার্কেট, আগারগাঁও, পরিকল্পনা কমিশন মোড়, বাংলাদেশ সচিবালয়, গুলশান-২, টিএসসি ও গুলিস্তানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।