বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন

শীতের প্রকোপ থাকবে মাসজুড়ে

  • সময়: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ৯.২৬ এএম
  • ৪৫ জন

চলতি জানুয়ারিতে মাসজুড়েই সারা দেশে শীতের প্রকোপ থাকবে। এর মধ্যে কখনো কখনো ঘন কুয়াশা কমে দিনের তাপমাত্রা ওঠানামা করলেও শীতের অনুভূতি ঠিকই থাকবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুধবারের পূর্বাভাসে এমনটাই জানানো হয়।

অধিদপ্তরের আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে গত দুদিন ধরে ঘন কুয়াশা কেটে দিনের বেলায় সূর্যের আলোতে জনমনে স্বস্তি ফিরলেও তাপমাত্রা কমে দেশের ৪৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে। সেই সঙ্গে ঠান্ডার তীব্রতা বেড়েছে। এভাবে আগামী কয়েকদিন দিনের চেয়ে রাতে শীতের অনুভূতি বেশি থাকবে।

সংস্থাটির তথ্যমতে, গত তিন দিনে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁর বদলগাছিতে। এ তাপমাত্রাই চলতি মৌসুমের এ পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন। এর আগে গত সোমবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মঙ্গলবার তা কমে দাঁড়ায় ৭ ডিগ্রিতে। রাজধানী ঢাকায় কুয়াশার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও আগের দিনের তুলনায় গতকাল তাপমাত্রা প্রায় দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে।

রাতে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টির কারণে গত দুদিন ধরে ঘন কুয়াশা কেটে দিনের বেলায় সূর্যের আলো দেখা দেওয়ায় সারা দেশে দিনের আবহাওয়া আরামদায়ক মনে হচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে তাপমাত্রা কমে রাতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে।

গত কয়েকদিনের তাপমাত্রা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেশ কিছুদিন ধরেই সারা দেশের আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন থাকলেও তাপমাত্রা সেভাবে কমেনি। কিন্তু গত দুদিনে ঘন কুয়াশা কেটে সূর্যের আলো দেখা দিলেও তাপমাত্রা এলাকা দুই থেকে তিন ডিগ্রি পর্যন্ত কমে গেছে। গতকাল দেশের অধিকাংশ এলাকার তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রির নিচে ছিল। এর মধ্যে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি কমেছে। এতে তীব্র শীতের অনুভূতি বেড়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় ওইসব এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শৈত্যপ্রবাহের এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। আগামী শুক্রবার রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আগামী ৫ দিনের সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা আরো কমতে পারে।

এদিকে সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরো পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে। তবে এর ফলে বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই।

ড. ওমর ফারুক বলেন, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে গত দুদিন ধরে ঘন কুয়াশা কেটে দিনের বেলায় সূর্যের আলো দেখা দিলেও আগামী শুক্রবার থেকে তা আবার বাড়তে পারে। ঘন কুয়াশা কমবেশি আর দিনের তাপমাত্রা ওঠানামা করলেও শীতলতম মাস হিসেবে চলতি মাসজুড়ে শীতের প্রকোপ থাকতে পারে। আর চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।

বর্তমানে দেশের মোট ৪৪টি জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি আরো কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এদিকে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে। সেখানে গতকাল তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে তাপমাত্রার বড় ধরনের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর দিনে ঢাকার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ৭৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম দেখা গেছে। রাজধানীতে দিন-রাতের তাপমাত্রার গড় ব্যবধান বেশি মাত্রায় কমছে প্রায় এক দশক ধরে। শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চিত্রও প্রায় একই রকম—বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, দিন-রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় ঘন কুয়াশা বেড়ে যাচ্ছে, কমছে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনের সংখ্যা, এর সঙ্গে বায়ুদূষণেরও সম্পর্ক আছে। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসায় মানুষের স্বাস্থ্য ও কৃষির ওপর বিরূপ প্রভাব বাড়ছে।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, ১৯৫৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ঢাকার তাপমাত্রার উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়কালের মধ্যে গত ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাওয়া ৭৩ বছরের ইতিহাসে ঢাকায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে এত কম ব্যবধান কখনো দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, শুধু ঢাকা শহরের তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করা হলেও এ থেকে দেশের অন্য অঞ্চল বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার গড় ব্যবধান কমে আসার প্রবণতা প্রায় এক দশক ধরে বেশি মাত্রায় দেখা যাচ্ছে। যদিও এ প্রবণতা দুই দশক ধরে দেখা যাচ্ছে।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2025 © All rights reserved by BUD News 24
Developed BY www.budnews24.com